কারও নির্দেশে বা চাপে ইরানের সঙ্গে তুরস্ক বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করবে না বলে জানিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রুী মেভলুত কাভুসোগলু। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে বার্ষিক বাণিজ্য ১ হাজার কোটি থেকে ৩ হাজার ডলারে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন তারা।
২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৬ জাতিগোষ্ঠীর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত ৮ মে ইরানের বিরুদ্ধে সমঝোতা ক্ষুণ্নের অভিযোগ তুলে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জয়েন্ট কমপ্রিহেন্সিভ প্লান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের এই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। ১২ মে পরবর্তী তিন মাসের জন্য এই চুক্তিতে ট্রাম্প স্বাক্ষর না করায় যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে সমঝোতা ভেস্তে গেছে।
এরপর ইরানকে রুখতে মার্কিন পরিকল্পনা ঘোষণার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ইরানের ‘আগ্রাসন’ রুখতে পেন্টাগন ও আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে তারা। তিনি ইরানকে ১২টি শর্ত বেঁধে দেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সিরিয়া থেকে সব সেনা প্রত্যাহার ও ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের অর্থায়ন বন্ধ করা। এছাড়া আন্তর্জাতিক আণবিক বিদ্যুৎ সংস্থাকে তাদের পারমাণবিক পরীক্ষার বিস্তারিত জানানো ও এই পরীক্ষা বন্ধ করা, প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি হুমকিস্বরূপ আচরণ বন্ধ করতে হবে।
তবে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপ এবং এশিয়ার দেশগুলোর সহায়তা দরকার। কারণ, এসব দেশের সঙ্গেই ইরানের বাণিজ্য সম্পর্ক বেশি। এসব দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্য অপেক্ষাকৃত কম।
তুরস্ক জানিয়ে দিয়েছে তারা ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে না। দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তুরস্কের যতটুকু জ্বালানি প্রয়োজন সেটা মেটাবেই। সামনের বছরে ইরানের সঙ্গে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ তিনগুণ বাড়ানো হতে পারে।








