ওয়ারেন বাফেটকে পিছনে ফেলে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ধনী নির্বাচিত হয়েছেন ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মার্ক জাকারবার্গ। শুক্রবার মার্কিন বাণিজ্য সাময়িকী ব্লুমবার্গের প্রকাশিত ধনকুবেরদের তালিকার তালিকার তিন নম্বরে উঠে আসেন ৩৪ বছরের এই ব্যবসায়ী।
মার্ক জাকারবার্গের সম্পদের পরিমাণ প্রায় আট হাজার ১৬০ কোটি ডলার। চলতি বছরের তালিকায় প্রযুক্তি ব্যবসায়ীরা প্রভাব বিস্তার করেছেন। তালিকার শীর্ষ তিনজনই প্রযুক্তি ব্যবসায়ী। প্রথম ১০ জনের মধ্যে ছয়জনই প্রযুক্তি খাত থেকে আয় করে থাকেন।
প্রতিবছর পৃথিবীর শীর্ষ ৫০০ ধনী ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করে থাকে ব্লুমবার্গ। তাদের ধনকুবের সূচক অনুযায়ী, পৃথিবীর শীর্ষ ধনী হলেন অ্যামাজন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস।
জাকারবার্গের তৃতীয় স্থানে উঠে আসার খবরে শুক্রবারই ফেসবুকের শেয়ারের দাম দুই দশমিক চার শতাংশ বেড়ে গেছে। ব্যবহারকারীদের তথ্য পাচারের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বিতর্কের মুখে পড়ে গত মার্চে আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছানো সত্ত্বেও চলতি বছরে ফেসবুকের স্টক শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। এই বছরের শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ এনালিটিকার কাছে পাচার করার খবর সামনে আসে। পরে সাড়ে আট কোটি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা শিবিরের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি স্বীকার করে নেয় ফেসবুক।
ব্লুমবার্গের তালিকায় এই প্রথমবারের মতো শীর্ষ তিনটি স্থান দখল করে নিয়েছেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিরা। ধনকুবের সূচকের চিহ্নিত করা পাঁচ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০ শতাংশ। অন্য যে কোনও ধরনের ব্যবসার চেয়ে এই খাতে অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি। শীর্ষ ১০ ধনী ব্যক্তির ছয়জন প্রযুক্তি থেকেই সম্পদ আয় করে থাকেন।
এক সময়ের শীর্ষ ধনী ওয়ারেন বাফেট বর্তমানে নেমে গেছেন চার নম্বরে। দাতব্য কাজে বিপুল অর্থ ব্যয় করায় তার অবস্থানের এমন পরিবর্তন হয়েছে। জাকারবার্গ ও তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান নিজেদের মৃত্যুর পর তাদের হাতে থাকা ফেসবুক শেয়ারের ৯৯ শতাংশ দান করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।








