আহেদ তামিমিকে নিজ কার্যালয়ে বরণ করে নিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তাকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা-মুক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের প্রতিকী ব্যক্তিত্ব আখ্যা দিয়েছেন তিনি। ৭ মাসেরও বেশি সময় ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকা তামিমি রবিবার মুক্তি পেয়েছেন।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সেনাদের গালে থাপ্পড় মেরে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের জীবন্ত প্রতীকে পরিণত হন তামিমি। তাকে ইসরায়েলের কারাগারে নেওয়া হয়। মার্চে সামরিক আদালতে তার বিরুদ্ধে ঘোষিত হয় জরিমানাসহ আট মাসের কারাদণ্ড। সে হিসেবে ১৯ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে থাকা তামিমির মুক্তি পাওয়ার কথা ১৯ আগস্ট। তবে বিশেষ মূল্যায়নে ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ কারও কারা মেয়াদ কমিয়ে আনতে পারেন। মুক্তির আগে আহেদের বাবা বাসেম আল তামিমি বলেন, তার মেয়ে ১৯ আগস্ট মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। তবে তার মুক্তির দিন এগিয়ে আনা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তামিমি আর তার পরিবারকে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে বরণ করে নিয়েছেন মাহমুদ আব্বাস। আব্বাস তামিমিকে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রতীক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলি দখলদারির বিরুদ্ধে তার অহিংস প্রতিরোধ একটি আদর্শ ও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর তামিমির বাড়িতে হানা দেয় দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বাড়ির প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে দখলদার সেনাদের চলে যেতে বলেন ১৬ বছরের তামিমি। কথায় কাজ না হওয়ায় পথ আটকে দাঁড়িয়ে থাকা দুই সেনাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় এক পর্যায়ে সেনাদের থাপ্পড় মারতে শুরু করেন তামিমি। এই দুঃসাহসিক ভূমিকার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তামিমি ও তার মাকে গ্রেফতার করে ইসরায়েলি সেনারা। একাধিক দফায় নেওয়া হয় রিমান্ডে। বিপরীতে ফিলিস্তিনের বাইরে যুক্তরাজ্যসহ দুনিয়ার নানা প্রান্ত থেকে তার মুক্তির দাবি উঠে। সেই সময়ে ১৬ বছরের মেয়ে তামিমি হয়ে উঠেন ফিলিস্তিনি জনগণের মুক্তি আন্দোলন ও তৃতীয় ইন্তিফাদার প্রতীকী চরিত্র।








