সদ্য কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বীরকন্যা আহেদ তামিমি ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সব ধরনের লড়াইয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন। জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সবসময়ই এটি ফিলিস্তিনেরই রাজধানী থাকবে। কারামুক্তির পর নিজ গ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত হওয়া তামিমি।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সেনাদের গালে থাপ্পড় মেরে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের জীবন্ত প্রতীকে পরিণত হন তামিমি। তাকে ইসরায়েলের কারাগারে নেওয়া হয়। মার্চে সামরিক আদালতে তার বিরুদ্ধে ঘোষিত হয় জরিমানাসহ আট মাসের কারাদণ্ড। সে হিসেবে ১৯ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে থাকা তামিমির মুক্তি পাওয়ার কথা ১৯ আগস্ট। তবে বিশেষ মূল্যায়নে ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ কারও কারা মেয়াদ কমিয়ে আনতে পারেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গতকাল ২৯ জুলাই রবিবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পশ্চিম তীরের নবী সালেহ গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আহেদ তামিমি গাজা উপত্যকা ও খান আল আহমার এলাকায় দখলদারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে আহেদ তার সঙ্গে জেলে থাকা তার মা নারিমানকেও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, দৃঢ়চেতা থাকার বিষয়ে তার সক্ষমতাই আমাকে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করেছে।
খাল আল আহমার পশ্চিম তীরের একটি বেদুইন গ্রাম। ইসরায়েলি বাহিনী গ্রামটি উৎখাতের চেষ্টা করলে সেখানে বিক্ষোভ দেখা দেয়। তামিমি বলেন, আমি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি যে, জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী আর সবসময় তাই থাকবে। ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। এরপর থেকে তারা জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার বৈধতা দেয়নি।
গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছরের মে মাসে জেরুজালেমে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে মার্কিন প্রশাসন। প্রতিবাদে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। এরপর জেরুজালেম বিষয়ে যেকোনও সিদ্ধান্ত অকার্যকর ঘোষণা করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদেও প্রস্তাব পাস করা হয়।








