অভিবাসী পরিবার একত্রীকরণের দায় অস্বীকার অগ্রহণযোগ্য: ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালত

বিদেশ ডেস্ক
০৫ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫২আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫৬

ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক অভিবাসী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশুদের বাবা-মাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব অস্বীকারের প্রচেষ্টাকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়েছে মার্কিন আদালত। সরকারের পক্ষ থেকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া বাবা-মাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব অন্য কাউকে দেওয়ার আবেদনের পর বিচারক আদালতের এই অবস্থান জানিয়েছেন। সান ডিয়াগোতে মার্কিন বিচারক ডানা সাব্রাও এ সংক্রান্ত মামলার শুনানিকালে বলেছেন, ‘তাদের একত্রিত করার দায় কোনও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নয়, এটা সরকারের দায়িত্ব’।

অভিবাসী পরিবার একত্রীকরণের দায় অস্বীকার অগ্রহণযোগ্য: ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালত

গত এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে অভিবাসীদের আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাদের শিশু সন্তানদের পরিবার-বিছিন্ন করা হচ্ছিল। পরিবার-বিচ্ছিন্ন করে ফেলা প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে এসব শিশুকে আটক রেখেই অনেক বাবা-মাকে তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে  জুন মাসে ওই নীতি থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ইতোমধ্যেই বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশুদের তাদের পরিবারের সঙ্গে একত্রিত করার উদ্যোগ নিতে ওই মাসেরই শেষের দিকে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয় আদালত। আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ৪১০ অভিভাবককে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া জেলা আদালতে শুনানি চলাকালে ট্রাম্প প্রশাসনের অ্যাটর্নি জেনারেল আবেদন জানান, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন-এসিএলইউসহ অন্যান্য অমুনাফাভোগী ও দাতব্য সংস্থাগুলোকে দেশত্যাগ করা ৪১০ অভিবাসী বাবা-মাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হোক। সাব্রাও এই আবেদন নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘এর শতভাগ দায়িত্ব প্রশাসনের’। বিচারক বলেন, ‘এসব বাবা-মায়ের অনেককেই তাদের সন্তানদের ছাড়াই দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিচ্ছিন্নকরণ ও পরে তাদের শনাক্ত করে পুনর্মিলিত করতে ব্যর্থতার ফলেই এসব হয়েছে।’ বিচারক একত্রীকরণ প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে সরকারকে নির্দেশ দেন। ডানা সাব্রাও বলেন, ‘এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হতে যাচ্ছে। তাই একজন ব্যক্তিকে এর দায়িত্ব দিতে হবে তা পরিষ্কার’। তিনি বলেন, ’বাস্তবতা হলো অবস্থান শনাক্ত করতে না পারা প্রত্যেক বাবা-মায়েরই একজন করে এতিম শিশু রয়েছে’। বিচারক সাব্রাও এর আগে বিচ্ছিন্ন করা প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে সরকারের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯০০ শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও কয়েকশ শিশুকে আটক করে রাখা হয়েছে।

অভিবাসী পরিবার একত্রীকরণের দায় অস্বীকার অগ্রহণযোগ্য: ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালত

সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী এসিএলইউ’র আইনজীবী লি গিলার্ন্ট বলেন, ‘সরকার যে ঝামেলা বাঁধিয়েছে তার দায়িত্ব এড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বিচারক’। গিলার্ন্ট অভিযোগ করেন, যেসব তথ্যের ভিত্তিতে দেশ থেকে বের করে দেওয়া অভিবাসী পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করা যাবে তা আটকে রেখেছে সরকার। তিনি বলেন, ‘সরকার যতদিন এসব তথ্য আটকে রাখছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ভোগান্তি তত বাড়ছে।’

আরেক মামলায় আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘ডেফারড অ্যাকশন ফর চিলড্রেন অ্যারাইভাল’-ডিএসিএ কর্মসূচি পুনরায় বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। শৈশবে বাবা-মায়ের সঙ্গে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো অভিবাসীদের কাজের অনুমতি দিতে ‘ড্রিমার’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ওবামা প্রশাসন। এর আওতায় প্রায় ৮ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত ছিল হোয়াইট হাউস। তাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে মূলত তরুণ অনিবন্ধিত অভিবাসীদের সুরক্ষা দিতে চেয়েছিল ওবামা প্রশাসন। এ কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পান প্রায় ৮ লাখ তরুণ। এই তরুণদের বলা হয় ‘ড্রিমার’। তবে গত সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটি সমাপ্তির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর আদালতের নির্দেশে সরকারের ঘোষণা স্থগিত হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে মামলা লড়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।   

ওয়াশিংটন ডিসিতে ‍যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক জাজ জন বেটিস গত এপ্রিলে সরকারকে প্রকল্পটি চালু রাখার নির্দেশ দিয়ে এ বিষয়ে প্রথম রুল জারি করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সরকারের যুক্তি-তর্কের পরও বেটিস তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সরকারের আপিল করার জন্য ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন।

/আরএ/বিএ/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম