ওয়ানএমবিডি নামে পরিচিত মালয়েশিয়ার শত শত কোটি ডলারের প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনায় দেশটির এক বিনিয়োগকারীর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে দেখা হচ্ছে। বিনিয়োগকারী লো তায়েক ঝো ২০১০ সালে ২০৩ কোটির বেশি টাকা দিয়ে বিলাসবহুল বোমবার্ডিয়ার গ্লোবাল-৫০০০ জেট বিমানটি কেনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলছে, এই অর্থ ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ (ওয়ানএমবিডি) তহবিল থেকে নেওয়া হয়েছিল। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ। রবিবার (১২ আগস্ট) দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ একথা জানিয়েছেন।
২০০৯ সালে মালয়েশিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য ওয়ান মালয়েশিয়া ডেপেলপমেন্ট বেরহাদ বা ওয়ানএমডিবি তহবিলটি গঠন করা হয়। দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (ওয়ানএমডিবি) অর্থ আত্মসাৎ করে তিনি নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা করেছেন। নাজিবের শাসনামলে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ তাকে নির্দোষ ঘোষণা করলেও অন্যান্য দেশ তার বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে বিরোধী জোটও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে নাজিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করা হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে মাহাথিরের নেতৃত্বাধীন সরকার। এই তদন্তে সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিচার বিভাগ বলছে, ওয়ানএমবিডি তহবিল থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার তছরুপ করা হয়েছে। এর বেশ কিছু অর্থ ব্যক্তিগত বিমান, প্রমোদতরী, পিকাসোর ছবি, গয়না ও সম্পত্তি কেনায় ব্যয় হয়েছে।
মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঝো লো নামে পরিচিত ওই বিনিয়োগকারীর ২৫ কোটি মার্কিন ডলারে কেনা প্রমোদতরী ইকুয়ানিমিটি গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে ইন্দোনেশিয়া। এই বছরের আরও আগের দিকে প্রমোদতরীটি জব্দ করেছিল দেশটি।
বোমবার্ডিয়ার গ্লোবাল-৫০০০ জেট বিমানটিও জব্দ করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বেরনামা’কে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তাই মনে করি। আমাদের এটি ফিরিয়ে আনতে হবে।’ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত বছর বিমানটি সিঙ্গাপুরে অবতরণ করিয়ে রাখা হয়েছে। তবে সিঙ্গাপুর বিমানটি থাকার কথা নিশ্চিত করেনি।
বিমান পরিবহণ সংস্থা জেট এভিয়েশন নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগে করা একই রেজিস্ট্রেশন নম্বরের একটি বিমান সিঙ্গাপুরের সেলেটার বিমানবন্দরে রাখা আছে। জেট এভিয়েশনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। তবে বিমানটি তাদের মালিকানা কিভাবে আসলো সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
আরও ৬টি দেশের মতো সিঙ্গাপুরও মালয়েশিয়ার ওয়ানএমডিবি দুর্নীতির তদন্ত করছে। ২০১৬ সালে দেশটি লো ও তার নিকটাত্মীয়দের প্রায় ৮ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। তবে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও লো ঝোয়ের এক প্রতিনিধি তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ লো-এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তবে তিনি কোথায় আছেন তা জানা যায় না। কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার মালয়েশিয়ার পাসপোর্ট। তবে এর আগে তিনি কোনও অন্যায় করার কথা স্বীকার করেননি।
লো-এর আইনজীবী দলের এক মুখপাত্র বলেছেন, মালয়েশিয়ার কাছে প্রমোদতরী ইকুয়ানিমিটির হস্তান্তর ছিল অবৈধ। ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতকে অমান্য করে তা করা হয়েছে বলে দাবি ওই মুখপাত্রের।
মার্কিন বিচার বিভাগের দায়ের করা এক মামলায় ওয়ানএমবিডি তহবিলের অর্থ ব্যয়ে কেনা সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।








