পশ্চিম তীরে এক ফিলিস্তিনি কিশোরের পারিবারিক বাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার তারেক ইব্রাহিম ধর ইউসুফ নামের ওই কিশোরের পারিবারিক বাড়ি গুড়িয়ে দেয় ইসরায়েলি সেনারা। গত ২৬ জুলাই ইসরায়েলি নাগরিকের ওপর হামলার পর ঘটনাস্থলেই ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরকে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি সেনারা। ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের দাবি ওই কিশোর সীমান্ত বেড়া অতিক্রম করে আদম বসতি এলাকায় প্রবেশ করে ওই ঘটনা ঘটায়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে।
ইউসুফের বাবা তারেক মার্কিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, ইসরায়েলি সেনা কর্তৃপক্ষ তাকে আগেই তাদের বাড়ি গুড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। স্থানীয় সময় বেলা তিনটা নাগাদ একটি বুলডোজার ও ২০টি সামরিক যান নিয়ে কাবুর এলাকায় তাদের বাড়ি গুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই সময়ে মাথার ওপরে একটি ড্রোন ওড়ানো হচ্ছিল। তারেক বলেন, ‘এক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ি ধ্বংস করা হয়ে যায়। এর পরই তারা চলে যায়।’
ইসরায়েলি সেনা কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সময়ে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নাগরিক বিক্ষোভ করে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর পাথর নিক্ষেপ ও পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারে। সামরিক বাহিনী তখন ‘দাঙ্গা প্রতিরোধকারী সরঞ্জাম’ ব্যবহার করে। এই সরঞ্জাম বলতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাধারণত টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা বুঝিয়ে থাকে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রায়ই প্রতিশোধমুলক পদক্ষেপ হিসেবে হামলায় অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুড়িয়ে দিয়ে থাকে। ফিলিস্তিনিদের হিসাবমতে ২০১৭ সাল থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ৪৫টি ফিলিস্তিনি বাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলা প্রতিরোধে বাড়ি গুড়িয়ে দেওয়া একটি ভালো পদক্ষেপ। তবে সমালোচকরা একে সমন্বিত শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরায়েল রাষ্ট্র। তার পর দুই দফা আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর সেই দখল আরও সুসংহত করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। আনতর্জাতিক কর্তৃপক্ষ এই দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দেয় না। আর নিজেদের ভূমিতে অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা।








