যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন নিয়ে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিলো দেশটিতে যুদ্ধরত সবপক্ষই হয়তো যুদ্ধাপরাধ করেছে। তবে এর বিরোধিতা করে সৌদি আরব জানায়, প্রতিবেদনে অনেক ভুল আছে।
তিন বছর আগে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী দখলে নেয় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি রাজধানী রিয়াদে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন হাদি। হুথিদের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি জোটের অভিযান শুরুর পর এপর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২২০০ শিশু রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানান, সরকারি বাহিনী, সৌদি জোট ও হুথি বিদ্রোহীদের কেউই বেসামরিকদের দুর্দশা কমানোর চেষ্টা করেনি।
জবাবে সৌদি জোট দাবি করে, তারা ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে খোলাখুলি ও স্বচ্ছভাবেই জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করছে। বিবৃতিতে তারা বলে, বেসরকারি সংস্থার বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘ মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।
সৌদি জোট আরও জানায়, ইয়েমেন জোটের সদস্য দেশগুলোর মানবিক সহায়তার কথা উল্লেখ নেই। অথচ বেশ কিছু দেশ ইয়েমেনের দুর্দশাপীড়িত নাগরিকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
জাতিসংঘ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধে স্কুল, হাসপাতাল ও বাজারে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে নিহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। জাতিসংঘ জানায়, সৌদি জোটের আকাশ ও নৌপথ অবরোধ করে দেওয়াও যুদ্ধাপরাধের সামিল। সামনের মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে বিশেষজ্ঞদের।
ইয়েমেনে যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে ২ কোটিরও বেশি মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের কাছে পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না। বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে দেশটি।








