যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ‘অপমান ও মিথ্যে বিতর্কের’ সংস্কৃতির নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের শেষকৃত্যে দেওয়া বক্তব্যে এ নিন্দা জানান তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে।
জন ম্যাককেইনকে ২০০৮ সালে রিপাবলিকান পার্টি তাদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনীত করেছিল। ম্যাককেইন তার রাজনৈতিক জীবনে মার্কিন সিনেটের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ৮১ বছর বয়সে ক্যান্সারে ভুগে গত সপ্তাহে মৃত্যুবরণ করেন ম্যাককেইন। ১ সেপ্টেম্বর, শনিবার তার শেষকৃত্য আয়োজিত হয়।
পতাকায় ঢাকা ম্যাককেইনের কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে শোক বক্তব্য রাখেন ডেমোক্র্যাট দলীয় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রাজনীতিতে অপবাদ ও ভুয়া বিতর্কের উপস্থিতির নিন্দা জানান তিনি। ওবামা বলেন: ‘আমাদের রাজনীতি, জনজীবন, আমাদের পাবলিক ডিসকোর্সের অনেকাংশেই বাগাড়ম্বর, অপমান এবং বানোয়াট বিতর্ক ও কৃত্রিমভাবে ক্ষোভ নির্মাণ করতে দেখা যায়। রাজনীতি হলো এমন এক জিনিস যা সাহসী ও কঠোর হওয়ার ভান করে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর জন্ম ভীতির ওপর ভিত্তি করে। জন আমাদেরকে এর ঊর্ধ্বে ওঠার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেখান থেকে অপেক্ষাকৃত ভালো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।’
দ্য গার্ডিয়ান জানায়, বক্তব্য দেওয়ার সময় একবারও বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ করেননি ওবামা। ম্যাককেইনের শেষকৃত্যেও উপস্থিত ছিলেন না ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, রিপাবলিকান পার্টিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে কড়া সমালোচকদের একজন ছিলেন সিনেটর ম্যাককেইন। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেখানে আটক হয়ে যাওয়ায় পাঁচ বছর ধরে বন্দি ছিলেন। ট্রাম্প তার ওই আটক হয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার ভাষ্য ছিল,‘তিনি হিরো কারণ তিনি ধরা পড়েছিলেন। আমি এমন মানুষদের পছন্দ করি যারা ধরা দেয় না।’ এর সমালোচনায় সাবেক যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে সমালোচনা করে বলা হয়েছে, ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় যাদের অর্থ ছিল তারা ডাক্তারের ভুয়া সনদ ব্যবহার করে যুদ্ধে যাওয়ার দায়িত্ব এড়িয়ে গেছে।








