যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মানবিক সহায়তা নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ উঠেছে। আর এমন অভিযোগ করেছেন ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তার জন্য পরিচালিত জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর কমিশনার জেনারেল পিয়েরে ক্রাহেনবুল। তিনি বলেন, ইউএনআরডব্লিউএ-এর জন্য মার্কিন তহবিল বাতিলের সিদ্ধান্ত মানবিক সাহায্য নিয়ে রাজনীতির প্রামাণ্য দলিল। নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছে লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি এমন মন্তব্য করেন। রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ইসরায়েল কর্তৃক দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত হয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থী হওয়া ৫০ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে ইউএনআরডব্লিউএ। তবে সম্প্রতি সংস্থাটিতে তহবিল বাতিলের ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
শরণার্থী সংস্থাটিকে অবিশ্বাস্য রকমের ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানায়, এই বোঝা যুক্তরাষ্ট্র আর বহন করতে চায় না।
ফিলিস্তিনিদের জন্য গঠিত জাতিসংঘের এই সংস্থার ৩০ ভাগ ব্যয় বহন করতো যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ২৬৪ মিলিয়ন ডলার তহবিল দিয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হেদার নোয়ার্ট জানান, এ বছর জানুয়ারিতে যে ৬০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে এরপর আর কোনও তহবিল দেওয়া হবে না।
অভিযোগ রয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি গ্রহণ করার জন্য ফিলিস্তিনিদের ‘ব্ল্যাকমেইল’ করতে এই ইস্যু ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। কেননা, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতাকৃত চুক্তিটি ইসরায়েলকেই সুবিধা দেবে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের এক মুখপাত্র জানান, এই তহবিল বাতিল হলো শাস্তি। এই অঞ্চলের সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ভূমিকা নেই।
ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক তহবিল বাতিলের ঘোষণার পর ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর আগে গত মার্চে ইউএনআরডব্লিউএ-এর জন্য পাঁচ কোটি ডলারের তহবিল দেওয়ার অঙ্গীকার করে কাতার।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়ে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে হাঁটছিল আগের মার্কিন প্রশাসন। এই পরিকল্পনা অনুসারে ১৯৬৭ সালের ৪ জুন ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের সীমান্ত আলাদা করা হয়েছিল। এতে পূর্ব জেরুজালেমকে ধরা হয়েছিল ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক রীতি ভঙ্গ করে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীর উপযুক্ত নয়। তাই মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কোনও শান্তি আলোচনায় যোগ দেবে না তারা। ফলশ্রুতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ করে দেয় ফিলিস্তিন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেয় ট্রাম্প প্রশাসন।








