দখলকৃত পশ্চিমতীরের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে ইসরায়েলি সেনা সদস্যকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে এক ফিলিস্তিনি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হেবরন শহরের অবৈধ বসতির প্রবেশ মুখে ওই সেনা সদস্যকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা হয় বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনা কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে ২৮ বছর বয়সী ওয়ায়েল আবদুলফাত্তাহ আল জব্বারিকে সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) কিরিয়াত আরবা ইহুদি বসতির প্রবেশ মুখে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনা সদস্যরা। ওই বসতির প্রবেশ মুখের ১৫ মিটারের মধ্যেই বাড়ি ছিল তার। গত মাসেও এক ফিলিস্তিনিকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে গুলি করে হত্যা করা হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ঘটনাস্থলে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনা সদস্যরা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, অবৈধ বসতি কিরিয়াত আরবাতে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত সেনা নিরাপত্তার মধ্যে কয়েক হাজার ইহুদি বসবাস করে। সেখানে বেশ কিছু ফিলিস্তিনি নাগরিকের বসতিও রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে ইসরায়েলি নাগিরকদের বসতিকে অবৈধ বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল শান্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম বিরোধপূর্ণ ইস্যু এই বসতি।
ইসরায়েলি সেনা কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়, 'এক ফিলিস্তিনি আততায়ী... হাতে ছুরি নিয়ে কিরিয়াত আরবার নিরাপত্তা ক্রসিংয়ের কাছে চলে আসে। এর প্রতিক্রিয়ায় আইডিএফ (ইসরায়েলি সেনাবাহিনী) সদস্যরা আততায়ীকে নিরস্ত্র করে'।
ওই ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গেছে আল জব্বারি মাটিতে পড়ে আছে আর রক্তে ঢাকা পড়েছে তার শরীর। আর তাকে ঘিরে রয়েছে ইসরায়েলি সেনা সদস্য ও অবৈধ বসতির বাসিন্দারা। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে কালো একটি প্লাস্টিক ব্যাগে তার শরীর ঢেকে দিচ্ছে এক ইসরায়েলি সেনা।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, এরপর একটি সেনা ট্রাক তার মরদেহ তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়। আল জব্বারির স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। খবরে বলা হয়েছে ওই বসতির প্রবেশ মুখের ১৫ মিটারের মধ্যেই তার বাড়ি।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপ ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধে ইসরায়েলের গুলি চালানোর নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে ইসরায়েলি পুলিশ তাদের গুলি শুরুর নীতি শিথিল করে। এতে বাহিনীর সদস্যদের পাথর বা আগুন বোমা ছোঁড়া হলেও প্রাথমিকভাবেই প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।








