ব্রাজিলে পুড়ে যাওয়া জাদুঘরটি পুনর্নির্মাণে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যাংকের কাছ থেকে তহবিল জোগাড়ের চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তাও চাওয়া হচ্ছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমের ও সেদেশের অর্থমন্ত্রী রোসিয়েলি সোয়ারেসকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ কথা জানিয়েছে।
ব্রাজিলের স্থানীয় সময় রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দেশটির ২০০ বছর পুরনো জাতীয় জাদুঘরে ভয়াবহ আগুন লাগে। রিও ডি জেনিরোতে অবস্থিত ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ব্রাজিল নামের এই জাদুঘরটি দেশটির সবচেয়ে পুরনো বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। জাদুঘর ভবনটিতে এক সময় পর্তুগীজ রাজ পরিবার বসবার করতো। সম্প্রতি এর দুশো বর্ষপূর্তি পালন করা হয়েছে বেশ সাড়ম্বরেই। জাদুঘরটিতে ২ কোটিরও বেশি বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন ছিল। জাদুঘর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনে এসব নিদর্শনের ৯০ ভাগই ধ্বংস হয়ে গেছে।
সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে বলা হয়, ‘যত দ্রুত সম্ভব’ জাদুঘরটি পুনর্গঠনের উপায় বের করতে দেশের বড় বড় ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তেমের। আর দেশটির শিক্ষামন্ত্রী রোসিয়েলি সোয়ারেস বলেছেন, জাদুঘর পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে জাতিসংঘের সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বিধ্বস্ত ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সোয়ারেস বলেন, কাঠামো পুনর্নির্মাণ ও নিদর্শন পুনঃস্থাপনে প্রাথমিকভাবে দেড় কোটি ব্রাজিলীয় রিয়াল বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
রিওডি জেনিরো শহরের দমকল বিভাগের প্রধান রবার্তো রবাদি জানান, আগুন নেভাতে জরুরি বিভাগের কর্মীরা যখন পৌঁছান তখন পার্শ্ববর্তী জলাধার শুকনো ছিল। কাছাকাছি থাকা একটি হ্রদ ও ট্যাংকার ট্রাক থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। সোমবার তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘গতকাল ছিল আমার কর্মজীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিনগুলোর একটি।’
জাদুঘরটি সংরক্ষণে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ মনযোগ দেয়নি উল্লেখ করে ক্ষোভ জানিয়েছেন জাদুঘরের উপ পরিচালক লুইজ ফার্নান্দো দিয়াজ দুয়ার্তে। তিনি বলেন, 'আমরা বিভিন্ন সরকারের সময়েই দাবি জানিয়েছিলাম যেন নিদর্শনগুলো যথার্থভাবে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসা হয়। আজ তা ধ্বংস হয়ে গেল।'








