যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে টলবে না আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

বিদেশ ডেস্ক
১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:০২আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:১৮
image

আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের দায়ে মার্কিন সেনাদের বিচার করলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে হুমকি দেওয়া হয়েছে তাতে ভীত নয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক আদালত জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের কাজে অনড় থাকবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ কথা জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত
২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযান শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ অভিযান শেষ হয় ২০১৪ সালে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এখনও আফগান সেনাদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর ফাতৌ বেনসুদা বলেছিলেন, আফগানিস্তানে যে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা ‘বিশ্বাস করার মতো যৌক্তিক ভিত্তি’ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সদস্যরাসহ আফগান যুদ্ধে লিপ্ত সব পক্ষের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য রাষ্ট্র নয়। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে অবৈধ আখ্যা দেন। এ আদালতে মার্কিন সেনাদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করলে সেখানকার বিচারপতি ও প্রসিকিউটরদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে টলছে না আইসিসি।

মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে হেগভিত্তিক এ আদালতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। ১২৩টি দেশের সমর্থন তাদের সঙ্গে রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আইনের শাসনে পরিচালিত আদালত হিসেবে আইসিসি অবিচলভাবে কাজ করে যাবে। আইনের শাসনের ধারণা ও নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কাজ করা হবে।’

জন বোল্টন
১৯৯৭ সালের ১৭ জুলাই রোম স্ট্যাচু গৃহীত হয়। এ নীতিমালা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে রোম স্ট্যাচু কার্যকর করতে ১২০টি দেশের স্বীকৃতির প্রয়োজন ছিল। ১২০ দেশের স্বীকৃতির পর ২০০২ সালের ১ জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার কার্যক্রম শুরু করে। রোম স্ট্যাচুর প্রতি ১২৩ দেশের সমর্থন থাকলেও ৭০টি দেশ এতে অনুমোদন দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও এ আদালতকে স্বীকৃতি দেয়নি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন রোম নীতিমালায় স্বাক্ষর করলেও প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ তা প্রত্যাহার করে নেন। এই আদালত সাধারণত গণহত্যা,যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ীদের অভিযুক্ত করে থাকে।

সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনে রক্ষণশীল গোষ্ঠী ফেডারেলিস্ট সোসাইটিতে দেওয়া বক্তব্যে আইসিসিতে মার্কিন সেনাদের বিচারের উদ্যোগ নিয়ে ক্ষোভ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। তিনি বলেন,আফগানিস্তান কিংবা আইসিসির রোম স্ট্যাচুতে স্বাক্ষরকারী কোনও দেশই অপরাধ আদালতে এ ধরনের কোনও অনুরোধ জানায়নি।

আফগানিস্তান যুদ্ধে মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগ নিয়ে অপরাধ আদালত যদি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে তবে ট্রাম্প প্রশাসন এর বিরুদ্ধে জবাব দেবে বলে সতর্ক করেন বোল্টন। তিনি বলেন,‘আমাদের দেশের নাগরিক ও আমাদের মিত্রদেরকে এ অবৈধ আদালতের অন্যায্য বিচার থেকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’

বোল্টন অপরাধ আদালতকে হুঁশিয়ার করে বলেন,এ ধরনের তদন্ত শুরু হলে, বিচারপতি ও প্রসিকিউটরদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ওই বিচারপতি ও প্রসিকিউটরদের আর্থিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তাদের বিচার করা হতে পারে। তিনি বলেন ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার আওতায় আমরা তাদের (অপরাধ আদালতের বিচারপতিদের) বিচার করব। মার্কিনিদের নিয়ে আইসিসির তদন্তে যে কোম্পানি বা রাষ্ট্র সহায়তা দেবে তাদেরও একই পরিণতি হবে।’

/এফইউ/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম