সূর্যোদয়ের আগে ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান

বিদেশ ডেস্ক
১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৪৭আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৫২

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেদুইনদের গ্রাম খান আল আহমারে বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের আগেই অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। এই অভিযানে গ্রামটির পাঁচটি তাঁবু গুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের একটি ক্যাম্প খালি করে দেওয়া হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে। সূর্যোদয়ের আগে ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান
খান আল আহমার গ্রামটি জেরুজালেমের বড় দুই অবৈধ বসতি মালে আদুমিম ও কাফফার আদুমিম এর কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। ওই দুটি বসতিই সম্প্রসারণ করতে চাইছে ইসরায়েল সরকার। গত ৬ সেপ্টেম্বর সেখানকার বাসিন্দাদের জোর করে সরিয়ে দিতে সেনাবাহিনীকে সবুজ সংকেত দেয় ইসরায়েলের আদালত। অনুমতি ছাড়া নির্মাণ হয়েছে দাবি করে এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রামটি খালি করে ফেলার নির্দেশ দেয় আদালত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের আগে খান আল আহমারে হাজির হয় ইসরায়েলি বাহিনী। অ্যাগেইনিস্ট দ্য ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কমিশনের প্রধান ওয়ালিদ হাসাফ বলেন, আমরা আশা করেছিলাম...পাঁচটি বাড়ি গুড়িয়ে দিতে সফল হয়ে তারা ক্ষান্ত হবে। আমরা লড়াই করার জন্য সেখানে যাইনি, খালি বাড়িগুলো রক্ষা করতে গিয়েছিলাম। আমরা খান আল আহমারের বাড়িগুলো রক্ষা করতে চাই।

সূর্যোদয়ের আগে পরিচালিত এই অভিযানে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে যে, শিগগিরই হয়তো গ্রামটি ধ্বংস করে ফেলা হবে। তবে পাঁচটি বাড়ি ও বিক্ষোভকারীদের তাঁবু গুড়িয়ে দিয়ে তারা চলে যায়।

খান আল আহমার থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক বলেন, স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটায় ইসরায়েলি বাহিনী গ্রামে প্রবেশ করে। তারা গ্রামের বাইরে অবস্থান নিয়ে সেখানে গ্রামের বাসিন্দাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অবস্থান নেওয়া অ্যাকটিভিস্টদের অস্থায়ী অবকাঠামো গুড়িয়ে দেয়। ওই সময়ে তারা সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি আর ধ্বংস করা অবকাঠামোগুলো তারা সরিয়ে নেয়।

খান আল আহমার গ্রামটিতে মূলত বেদুইন জাহালির উপজাতির বাস। ১৯৫০’র দশকে এই বাসিন্দাদের তাদের নিজ ভূমি নাকাব মরুভূমি থেকে বিতাড়িত করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। খান আল আহমারে বসতি গড়ার আগে তাদের অন্তত দুইবার নিজেদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। চারপাশে ইসরায়েলি অবৈধ দখলের মধ্যে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তিতে ‘এরিয়া সি’ নামে পরিচিত গ্রামটিতে ৪০টি ফিলিস্তিনি পরিবার তাঁবু ও খুপড়ি ঘরে বসবাস করে। ‘এরিয়া সি’ তে পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশ এলাকা চিহ্নিত করা আছে। এসব এলাকা পুরোপুরিভাবে ইসরায়েলি প্রশাসন ও নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণে।

/জেজে/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম