তুরস্কের সিরীয় সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন করছে দেশটির সরকার। ইদলিবে তাদের মিত্রদের সঙ্গে আসাদবিরোধীদের দমনের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকালে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় হামা প্রদেশ সীমান্তবর্তী তুর্কি ঘাঁটি মোরেকে তুরস্কের এক সামরিক বহর অবস্থান নেয়।
এছাড়া হাতায় প্রদেশের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে সামরিক বিমানে করে অনেক তুর্কি সেনাকে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে তারা কোনদিকে অগ্রসর হচ্ছে তা বোঝা যায়নি।
আসাদের সরকার সিরিয়াজুড়ে বিদ্রোহীদের দমন করতে পারলেও ইদলিবে এখনও বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের শেষ বড় ধরনের লড়াই হবে এখানেই। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ইদলিবে এখনও ১০ হাজার আল-নসুরা ও আল-কায়েদা সদস্য অবস্থান করছে। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিদ্রোহীদের শেষ শক্তিশালী ঘাঁটি ইদলিবে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইদলিবে সরকারি বাহিনীর হামলার মুখে ইতোমধ্যে ৩০ হাজারের বেশি বাসিন্দা উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক। সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকারি বাহিনীর হামলার মুখে উদ্বাস্তু হওয়া বেশিরভাগ মানুষই ১ থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। দুজারিক বলেন, ‘আমরা ইদলিবের ৩০ লাখ বাসিন্দাকের নিয়ে উদ্বিগ্ন আছি।
তুরস্কে ইতোমধ্যে ৩৫ লাখ সিরীয় শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। ইদলিবে হামলার পর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে তারা। তুরস্ক বরাবরেই বেসামরিকদের রক্ষা করার পক্ষে। তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েন নিয়ে তুর্কি নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেতিন গুরকানের দাবি, এটি সম্পূর্ণই আত্মরক্ষামূলক। তিনি বলেন, আপনারা অস্ত্রগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন এগুলো আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা।
সাত বছরের বেশি সময় ধরে চলমান সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ৪ লাখের মানুষ নিহত বা নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।








