ফিলিপাইনে বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ম্যাংখুত আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় শনিবার ভোর রাতে লুজন দ্বীপের ওপর দিয়ে ম্যাংখুত বয়ে যায়। দেশটির উত্তরে অবস্থিত মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ ও গুয়াম অঞ্চল টাইফুনের আঘাতে বিধস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে টাইফুনে কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে দুই নারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে সেখানকার পুলিশ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ঝড়ের গতি কমতে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
খবরে বলা হয়, মধ্যরাতের পর চীনের উপকূলীয় লুজন দ্বীপে টাইফুন ম্যাংখুতের আঘাতে অনেক গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে, বহু ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে যায় এবং অনেক এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এটিকে 201২০১৮ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এ কারণে ইতোমধ্যে হাজার হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
২০১৩ সালে ফিলিপাইনে আঘাত হানা সবচেয়ে প্রাণঘাতি সুপার টাইফুন হাইয়ানের সময় চার নম্বর সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এবারের ঝড়েও চার নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়। এই সংকেতে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে থাকেন। আশঙ্কা করা হচ্ছিল, টাইফুন ম্যাংখুতের সময়ে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৬৮ কিলোমিটার থেকে প্রায় ৩২৪ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির ঊর্ধ্বতন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ক্রিস পেরেজ সতর্ক করে বলেছিলেন, লুজনের উত্তরাঞ্চলের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঝড়ের কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা তিন থেকে ছয় মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসের তথ্য মতে, প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি লোককে উদ্ধার করা নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। তুমুল বৃষ্টি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস ও বন্যা নিয়ে আসতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সরকারের প্রধান সমন্বয়কারী ফ্রান্সিস টোলেন্টিনো বলেন,‘কর্তৃপক্ষের পরামর্শের প্রতি আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত হবে।’ আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ম্যাংখুত এই বছর ফিলিপিনের ১৫তম ঝড়। প্রতিবছর গড়ে ২০টি টাইফুন দেশটিতে আঘাত হেনে থাকে।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এখনই বৈদেশিক সাহায্য আহ্বানের প্রয়োজন নেই। তবে সংকটের তীব্রতার উপর নির্ভর করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে টাইফুন ম্যাংখুত রবি বা সোমবার চীন ও হংকংয়ে আঘাত আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দ্রুত গতির ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে চীনা সংবাদমাধ্যম।








