মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞকে কী হিসেবে আখ্যায়িত করা হবে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির দুই প্রভাবশালী সিনেটর। পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে ওই নিধনযজ্ঞকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ নাকি ‘গণহত্যা’ বলা হবে তা নির্ধারণের আহ্বান জানান তারা। ওই দুই সিনেটর হচ্ছেন রবার্ট মেনেনদেজ এবং টড ইয়াং।
চিঠিতে বলা হয়, ‘রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান নিয়ে অবিলম্বে একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার জন্য আপনার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ নিয়ে পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদন প্রকাশের একদিনের মাথায় এই চিঠি দিলেন দুই সিনেটর।
পররাষ্ট্র দফতরের ওই প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। আর চিঠিতে সিনেটররা পম্পেও’র কাছে জানতে চান, প্রতিবেদনটি পররাষ্ট্র দফতরের আইনি পরামর্শককে দেওয়া হয়েছে কি না? দেওয়া হলে তিনিই নির্ধারণ করতে পারবেন যে, এটা গণহত্যা নাকি মানবতাবিরোধী অপরাধ।
সিনেটররা বলেন, ‘প্রতিবেদনে খুব জোরালোভাবে হত্যাযজ্ঞের কথা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে স্পষ্ট করে বলা হয়নি যে, এটা গণহত্যা নাকি মানবতাবিরোধী অপরাধ। জাতিসংঘে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের শুভশক্তির বাহিনী। আমরাও তাই বিশ্বাস করি।’
রবার্ট মেনেনদেজ এবং টড ইয়াং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই শুভশক্তির লড়াই অব্যাহত রাখতে হলে সেই চর্চাও করতে হবে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অপরাধকে কঠোরভাবে তুলে ধরতে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করা উচিত নয়।
এর আগে কংগ্রসের এক শুনানিতে ‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ’ নিয়ে হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান এড রয়েস অভিযোগ করেন যে, তিন দশকের বেশি সময় ধরে মিয়ানমার সরকার চাতুর্যপূর্ণভাবে রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।
তিনি বলেন, ‘তাদের শিক্ষা বা স্বাস্থ্যসেবার কোনও অধিকার ছিল না। আর গত বছর এই নিপীড়ন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সেনাবাহিনীর নিপীড়নের শিকার হয়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়।’
এড রয়েস বলেন, একে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাযজ্ঞ বলে অভিহিত করা যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ধাপ হতে পারে। এতে করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সচেতনতা ও সমর্থন তৈরি হবে।
অনেকটা একইরকম বক্তব্য আরেক কংগ্রেসম্যান ইলিয়ট এঞ্জেলের। তিনি বলেন, ‘আমাদের উচিত বৈশ্বিকভাবে একে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা। এটা স্পষ্টত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং একইসঙ্গে গণহত্যা। এরপর আমাদের উচিত নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
এঞ্জেল দাবি করেন, ‘এসব কিছু না বলে পররাষ্ট্র দফতর এমন ভাষা ব্যবহার করেছে যাতে করে অন্যায়কারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। আর আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো যারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে সেখানেও প্রেসিডেন্টের ভূমিকা সমালোচিত হচ্ছে। অথচ এই সংকটকে ঘিরে আমাদের আরও আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করা প্রয়োজন ছিল।








