মেলানিয়ার আফ্রিকা সফরের নেপথ্যে

মাহাদী হাসান
০৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:০০আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:০৯
image

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছরেই মিসর ও ঘানা সফরে গিয়েছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার পূর্বসূরী জর্জ ডব্লিউ বুশও আফ্রিকায় বড় দুটি সফর করেন। তবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে ঘটল ব্যতিক্রমী ঘটনা। তার আগেই আফ্রিকা সফর করলেন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। চারটি দেশ সফরের উদ্দেশে এখন তিনি আফ্রিকায়। মেলানিয়ার এই সফরকে কেউ কেউ তার ট্রাম্পবিরোধী মনোভাবের ধারাবাহিকতা বলতে চাইছেন। তবে কেউ মনে করছেন ট্রাম্পের ভাবমূতি রক্ষা করতেই আফ্রিকা গেছেন মেলানিয়া।
আফ্রিকায় মেলানিয়া

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে অন্যান্য ফার্স্টলেডিরাও এমন সফর করেছিলেন। ১৯৯০ সালে তৎকালীন ফার্স্টলেডি নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। রোবেন দ্বীপে ম্যান্ডেলার কারাগারও দেখেছিলেন। এরপর লরা বুশও এইচআইভি নিয়ে কাজ করতে আফ্রিকা গিয়েছিলেন। সর্বশেষ মিশেল ওবামাও দক্ষিণ আফ্রিকায় একক সফর করেছিলেন। তবে মেলানিয়ার এই সফরটি নানা কারণে আলাদা তাৎপর্য নিয়ে হাজির হয়েছে। ফার্স্ট লেডি হিসেবে এটাই তার প্রথম একক বিদেশ সফর। সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর, নিজে নিজেই এই সফরের পরিকল্পনা করেছেন মেলানিয়া। ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিশাম বলেন, ‘তিনি প্রত্যেকটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রতিবন্ধকতা ও সাফল্য নিয়ে জানতে আগ্রহী।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে তার এই সফর সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও দাতব্য সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা। এই সফরের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মেলানিয়ার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না। বেশ কিছুদিন ধরেই এই দম্পতির সম্পর্কের শীতল অবস্থার কথাও শোনা যাচ্ছিলো। এমন অবস্থার মধ্যেই আফ্রিকায় নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য ‍সুরক্ষা নিয়ে কাজ করতে গেলেন মেলানিয়া ট্রাম্প। মঙ্গলবার সকালে ঘানায় পৌঁছান তিনি। রাজধানী আক্রায় একটি হাসপাতাল পরিদর্শনে যান তিনি, দেখা করেন মা ও সদ্যজাতদের সঙ্গে। সামনের দিনগুলোতে মালাউ, কেনিয়া আার মিসর সফর করবেন তিনি। ওয়াশিংটনে ফিরবেন ৭ অক্টোবর। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই সফর নিয়ে খুব বেশি জমকালো কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আদতে তেমন গ্ল্যামার ছিলো না এই সফরে।
ঘানার ঐতিহাসিক স্থানে মেলানিয়া

দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই আফ্রিকা নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করতেন ট্রাম্প। প্রায়ই বলে উঠতেন বারাক ওবামার জন্ম কেনিয়া। ইবোলা মহামারির সময় ২০১৪ সালে তিনি বলেছিলেন, পশ্চিম আফ্রিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সকল ফ্লাইট বাতিল করা উচিত। হাইতি ও এল সালভেদরসহ বেশ কিছু আফ্রিকান দেশ নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, এসব দেশ থেকে কোনও অভিবাসী চায় না যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আফ্রিকায় কি হচ্ছে গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আমি তা জানতে পারি। আপনারা যদি তা দেখতেন! খুবই দুঃখজনক ও সহিংস।’ ক্ষমতায় আসার পর মিসরের শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি নাইজেরিয়া ও কেনিয়ার নেতাদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তারপরও আফ্রিকার বড় অংশ ও অনেক ইস্যু নিয়ে কোনও ব্যবস্থা নেননি তিনি। আফ্রিকার কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয় সবসময়ই পিছিয়ে গেছে। আর সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগী শাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছিলো ট্রাম্প প্রশাসন। পরে অবশ্য তা তুলে নেওয়া হয়।

ওয়াশিংটন পোস্ট আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ট্রাম্পের আফ্রিকা সংক্রান্ত নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে ফার্স্ট লেডির কর্মকাণ্ড সাংঘর্ষিকও হয়ে উঠতে পারে। একটি হাতি ও গণ্ডার সংরক্ষণকেন্দ্র পরিদর্শনের কথা রয়েছে মেলানিয়ার। বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসন হাতি ও গণ্ডার শিকারের ব্যাপারে আইন শিথিল করার পক্ষে। এছাড়া মেলানিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ইউএসএআইডির প্রধান মার্ক গ্রিন। আর ট্রাম্প প্রশাসন ওই সংস্থায় ৩০ শতাংশ বরাদ্দ কমাতে চান। এছাড়া ‘অবাধ্য’ দেশগুলোকে সহায়তা করা হবে কি না সেই বিতর্কের কেন্দ্রেও রয়েছে ইউএসএআইডি। ওয়াশিংটন পোস্টের দুই সাংবাদিক জন হাডসন ও জোস ডসি তাদের করা বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছিলেন, চীনের সঙ্গে সখ্যতা থাকা দেশগুলোর সহায়তা বন্ধ করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে করে সাব-সাহারান অঞ্চলের অনেক দেশেই সহায়তা বন্ধ হতে পারে। কারণ সেখানে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে চীন। 

মেলানিয়ার আফ্রিকা সফরের নেপথ্যে মালাউইয়ে এইচআইভি নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের পরিচালক বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের কারণে আমরা মা ও শিশুকে পর্যাপ্ত সহায়তা করতে পারছি না।  কায়সার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের পরিচালক ডিন কেটস বলেন, ‘হোয়াইট হাউসের এমন অবস্থান বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করে। যদি যুক্তরাষ্ট্র ক্রমান্বয়ে নিজেকে এমন বিচ্ছিন্ন করতে থাকে তবে আমরা আন্তর্জাতিকভাবে নেতৃস্থানীয় অবস্থান হারিয়ে ফেলবো। তবে সবকিছুর পরেও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের আফ্রিকা নীতি তার পূর্বসুরীদের থেকে আলাদা নয়। জর্জ ডব্লিউ বুশের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী হারসান জে কোহেন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আসলে আফ্রিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ধারাই অব্যাহত রাখছে। ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, ট্রাম্পের আসল আফ্রিকা নীতি এখনও তৈরি হচ্ছে। কেউ কেউ তাই ধারণা করছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতেই আসলে মেলানিয়া আফ্রিকা সফরে গেছেন।

কেউ কেউ আবার মনে করছেন, আফ্রিকায় মেলানিয়ার সফরের মাধ্যম তার স্বামীর অন্যান্য সংকট থেকে দৃষ্টি সড়ানো হচ্ছে। ফার্স্টলেডিদের নিয়ে লেখা বইয়ের রচয়িতা কেট অ্যান্ডারসন ব্রাউয়ার বলেন, ‘হোয়াইট হাউস আরেকটি গল্প তৈরি করতে চাইছে।  কলবি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লরা সি রসিকতা করে বলেন, আফ্রিকায় প্রথমদিনের পরিকল্পনা সফল হয়েছে।

/বিএ/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম