একেশ্বর মতবাদে বিশ্বাসী তিন ধর্মের নেতাদের নিয়ে জেরুজালেম সফরের আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী সৌদি ধর্মগুরু শেখ মুহাম্মদ আল ইসা। তার মতে, এই সফরের উদ্দেশ্য হবে জেরুজালেমে বিদ্যমান উত্তেজনা কমানো ও শান্তি আলোচনা শুরু করা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এক ধর্মীয় সম্মেলনে এই প্রস্তাব দেন ইসা।
শেখ মুহাম্মদ আল ইসা সৌদি অর্থায়নে পরিচালিত মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ-এমডব্লিউএল’র মহাসচিব। তিনি খ্রিস্টান ও ইহুদি প্রতিনিধিদের মুসলিম নেতাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘ফিলিস্তিনি সংকট’ মোকাবিলায় ‘শান্তি বহর’ হিসেবে অভিহিত করেন।
আল ইসা বলেন, ‘জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলো পরিদর্শনের এই বহরে তিন ধর্মেরই প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘যৌক্তিক জ্ঞান ও নায্যতার শক্তিসম্পন্ন প্রভাবশালী মানুষ ব্যতিত এই সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়।’ আল ইসার মতে, ‘এই বহরে যোগ দেওয়া নেতাদের কোনও রাজনৈতিক এজেন্ডা থাকবে না। রাজনৈতিক এজেন্ডা ছাড়াই তারা বেশি প্রভাবশালী হবে কারণ তারা স্বাধীন।’ সৌদি ধর্মগুরু বলেন, ‘এই ধরনের বহর সৌদি আরব থেকে হওয়া উচিত হবে না আর তা সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্বও করবে না। এটা মুসলিম বিশ্ব, খ্রিস্টান বিশ্ব ও ইহুদি বিশ্ব থেকে আসবে। এর সঙ্গে কোনও দেশেরই সম্পৃক্ততা থাকবে না।’
নিউ ইয়র্কে এমডব্লিউএল’র ‘যুক্তরাষ্ট্র ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে সাংস্কৃতিক সৌহার্দ্য’ বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জেরুজালেমে প্রস্তাবিত এই বৈঠক চরমপন্থীদের এই অঞ্চলের অধোগামী রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া থেকে বিরত রাখবে। তিনি বলেন, ‘চরমপন্থীরা এই সম্মেলনে নিয়ে খুশি নয়। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সভ্য সংলাপকে উদ্বুদ্ধ করি আর এতে চরমপন্থীরা খুশি নয়। এই চরমপন্থীদের উৎখাত করতেই আমরা এই সম্মেলনে মিলিত হয়েছি।’
এই ধরনের আহ্বান বেশ অসঙ্গতিপূর্ণ কারণ ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। এছাড়া বেশিরভাগ আরব দেশই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি ও জেরুজালেম নিয়ে তাদের দাবিরও স্বীকৃতি দেয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমাণ উপস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছিল ইসরায়েলের কর্মকর্তারা। এই বছরের শুরুতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রকে সমর্থন করেন। তিনি বলেছেন, ‘ইসরায়েলিদের নিজেদের ভূমিতে থাকার অধিকার রয়েছে।’ সম্মেলনে ইহুদি ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় নেতারা শান্তির আহ্বান জানানোর পর ইসা এই প্রস্তাব দেন।








