সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিহত হওয়ার কথা সৌদি আরব স্বীকার করতে যাচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস আগেই আভাস দিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছিল, খাশোগি নিহত হওয়া নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ওই ব্যাখ্যায় দাবি করা হবে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ভুল করে খাশোগিকে হত্যা করেন। এবার সে কর্মকর্তার নামটিও প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট আরও তিন সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সৌদি যুবরাজের উচ্চ পর্যায়ের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল আহমেদ আল আসিরির ওপর দায় চাপানোর পরিকল্পনা করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি গত ২ অক্টোবর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে তুরস্কের ইস্তানবুল শহরের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর আর বের হননি। সৌদি আরব অবশ্য বলছে, খাশোগি কনস্যুলেট ভবন থেকে বের হয়ে গেছেন। তবে তুরস্কের পক্ষ থেকে এর প্রমাণ চাওয়া হলে তা সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে রিয়াদ। তুরস্কের দাবি, তাদের তদন্তকারীদের হাতে নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে তুরস্কে আসা ১৫ সদস্যের একটি সৌদি দল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ আঙ্কারার। তুর্কি ও মার্কিন তদন্ত সূত্রে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, খাশোগি নিখোঁজের ঘটনায় সৌদি যুবরাজের সংশ্লিষ্টতা থাকার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে খাশোগির নিখোঁজ নিয়ে নিজেরা একটি তদন্ত করবে বলে জানায় সৌদি আরব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, তদন্ত শেষে খাশোগি নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করার পরিকল্পনা করেছে সৌদি আরব। আর এ হত্যাকাণ্ডের দায় চাপানো হবে সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আহমেদ আল আসিরির ওপর। বলা হবে, খাশোগিকে আটক করে সৌদি আরবে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য যুবরাজ মোহাম্মদের মৌখিক অনুমোদন ছিল। তবে আসিরি তার সে নির্দেশনা বুঝতে পারেননি এবং খাশোগিকে সৌদি আরবে ফিরিয়ে না নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে দুইটি বিষয় প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে সৌদি আরব। একটি হলো, এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা যেমন তারা হাজির করতে পারবে, তেমনি সৌদি আরবের ওপর থেকে সন্দেহের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া যাবে।
জেনারেল আসিরি একসময় ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের মুখপাত্র হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি সৌদি যুবরাজের খুব ঘনিষ্ঠ।
এদিকে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খাশোগির অন্তর্ধানের ঘটনায় এতোদিন সৌদি আরবের পক্ষে সাফাই গাইলেও বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন,খাশোগি মৃত বলেই আশঙ্কা তারা। এ সাংবাদিককে হত্যার নির্দেশ যদি সৌদি নেতৃত্ব দিয়ে থাকে তবে তাদেরকে চরম পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়,মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও রিয়াদ ও আঙ্কারা থেকে ফিরে তদন্তের বিস্তারিত জানানোর পর এমন অবস্থান জানিয়েছেন ট্রাম্প।








