হত্যাকাণ্ডের শিকার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগির ছেলে সালাহ খাশোগি সৌদি আরব ছেড়েছেন। বেশ কয়েক মাস ধরে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে পরিবারের বিশ্বস্ত একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে সক্ষম হন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বরাতে সে দেশের সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকেই খাশোগি পুত্রকে দেশত্যাগের অনুমতি দিতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সালাহ খাশোগির যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর খবর নিশ্চিত করে সৌদি সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।
মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) রিয়াদে ইয়ামামা প্রাসাদে খাশোগির দুই ছেলে সালাহ ও সাহেলকে সমবেদনা জানান বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ। তবে খাশোগির পরিবারের এক বন্ধুকে উদ্ধৃত করে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি সে সময় জানায়, খাশোগি যুবরাজের সমালোচনা করে ওয়াশিংটন পোস্টে কলাম লিখতে শুরু করার পর থেকেই সালাহ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছেন। তবে পরিবারের বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সালাহ ছাড়াও তার পরিবারের লোকজন বৃহস্পতিবারের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন।
খাশোগি পুত্র এমন সময় সৌদি আরব ছাড়তে সমর্থ হলেন, যখন প্রথমবারের মতো এবার রিয়াদ স্বীকারোক্তি দিয়েছে এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত। সৌদির টিভি চ্যানেল আল-আখবারিয়া জানায়, সৌদি পাবলিক প্রসিকিউটর খাশোগি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য গঠিত সৌদি আরব ও তুরস্কের যৌথ টাস্কফোর্স সূত্রে এই হত্যাকাণ্ডকে পূর্ব পরিকল্পিত বলেছেন। আখবারিয়ার খবরে বলা হয়েছে, খাশোগির ঘটনা তদন্তে গঠিত সৌদি আরব ও তুরস্কের যৌথ টাস্কফোর্সের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই কৌঁসুলি সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
সালাহ খাশোগি সাংবাদিক জামাল খাশোগির প্রথম সন্তান। মঙ্গলবার যুবরাজের সঙ্গে তার করমর্দনের একটি ছবি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটে প্রকাশ করা হয়। সৌদি আরব বলছে, সমবেদনা জানাতে খাশোগি পুত্রকে রাজদরবারে ডাকা হয়েছিল। তবে বিশিষ্টজনেরা একে ‘প্রচারণামূলক’ ছবি আখ্যা দিয়েছেন। যুবরাজের সঙ্গে খাশোগি পুত্রের করমর্দনের ছবিটিকে তাই ভণ্ডামি বলে আখ্যা দেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অ্যাকটিভিস্ট-লেখক-আইনজীবী আর সাংবাদিকেরা। যুবরাজকে খুনি আখ্যা দিয়ে ছবিটি নিয়ে টুইটারে ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন তারা।
ইস্তানবুলস্থ সৌদি কনস্যুলেট ভবনে খাশোগি হত্যার শিকার হওয়ার পর তুমুলভাবে আন্তর্জাতিক চাপে রয়েছেন সৌদি যুবরাজ। সমালোচকদের আশঙ্কা, সৌদি যুবরাজই খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা না হলেও অন্ততপক্ষে এ ব্যাপারে তার জানা ছিল। খাশোগি পুত্র সালাহ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র দফতরের এক ডেপুটি মুখপাত্র সৌদি আরবের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। মুখপাত্র রবার্ট পালান্দিনো জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।








