হত্যাকাণ্ডের শিকার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগির মরদেহ সম্পর্কে সৌদি আরবের কাছে জানতে চেয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। হত্যা-রহস্য উন্মোচনে সৌদি আরব কর্তৃক গ্রেফতার ১৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদও করতে চান তিনি। শুক্রবার আঙ্কারায় তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির প্রাদেশিক নেতাদের এক সমাবেশে দেওয়া ভাষণে তিনি হুঁশিয়ার করেন, ঘটনা সম্পর্কে তুরস্ক যতটুকু তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে, তার চেয়ে আরও বেশি তথ্য তাদের হাতে আছে।
তুর্কি বাগদত্তার সাথে বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র আনতে গত ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলাম লেখক ও স্বেচ্ছা-নির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। শুরুতে অস্বীকার করলেও ১৯ অক্টোবর সৌদি জানায়, তুরস্কের ইস্তাম্বুল কসন্যুলেটে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে খাশোগির মৃত্যু হয়। এর দুদিন পরই খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও স্বীকার করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তাদের দাবি ছিল জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার চিৎকার থামাতে মুখ চেপে ধরলে ভুলবশতভাবে মৃত্যু হয়েছে। তবে ২৬ অক্টোবর (শুক্রবার) তারা এই হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। সৌদি আরবের ভাষ্যমতে, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গোয়েন্দা সংস্থার উপ-প্রধান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দেহরক্ষীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন এ কে পার্টির বৈঠকে ভাষণ দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। সে সময় খাশোগি হত্যার প্রসঙ্গে এরদোয়ান বলেন, ‘তাকে হত্যার আলামত মিলেছে, কিন্তু তার মরদেহ কোথায়? সৌদি কর্মকর্তারা বলছেন,স্থানীয়দের হাতে তুলে দেওয়া হয়ে। এই স্থানীয় বলতে কাদের কথা বলা হচ্ছে?’
তুরস্কের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে শুরু থেকেই সে দেশের সংবাদমাধ্যমকে বলে আসছিলেন, খাশোগিকে হত্যা করার পর তার দেহ সরিয়ে দেয়ার জন্য টুকরো টুকরো করা হয়েছে। তাদের কথার প্রমাণ হিসাবে তুর্কি সংবাদমাধ্যমগুলোতে সৌদি টিমের সদস্যদের নাম, ছবি দেয়াসহ বিমানবন্দরে তাদের উপস্থিতি এবং ইস্তানম্বুলে তাদের পদচারণারও তথ্য দিয়েছে। খাসোগি সাজা আরেকজনের সিসি ক্যামেরার ছবিও তারা এ সপ্তাহে প্রকাশ করে। আর এরপরই এরদোয়ানও দাবি করেছিলেন, এ সাংবাদিককে হত্যা পূর্বপরিকল্পিত এবং এটি যে রাজনৈতিক অপরাধ তার স্পষ্ট প্রমাণ তুর্কি গোয়েন্দারা পেয়েছেন। এবার তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইতোমধ্যেই যা প্রকাশ করা হয়েছে, তার থেকেও অনেক বেশি তথ্য তুরস্কের হাতে রয়েছে।
২৩ আগস্ট (মঙ্গলবার) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে খাশোগির মরদেহের একাংশ উদ্ধার হওয়ার খবর দেয়। তবে ইস্তানবুলের তুর্কি প্রসিকিউটর কার্যালয় এই খবর অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সামাজিক মাধ্যমে খাশোগির লাশের যে ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তা ভুয়া।








