সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবকে জবাবদিহিতার আওতায় নিতে রিয়াদের প্রতি চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি মনে করছে, জামাল খাশোগিকে নিয়ে সৌদি আরবের মিথ্যাচার প্রত্যাখান করা উচিত বিশ্বনেতাদের। জাতিসংঘের আওতায় এ ঘটনার স্বাধীন তদন্ত নিশ্চিতের পাশাপাশি সৌদি আরবের প্রতি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।
তুর্কি বাগদত্তার সঙ্গে বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার কলাম লেখক ও স্বেচ্ছানির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। শুরুতে অস্বীকার করলেও ১৯ অক্টোবর সৌদি জানায়, তুরস্কের ইস্তানবুল কনস্যুলেটে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে খাশোগির মৃত্যু হয়। এর দুদিন পরই খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও স্বীকার করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তাদের দাবি ছিল জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভুলবশত তার মৃত্যু হয়েছে। পরে অবশ্য তারা এই হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, এই ঘটনায় জাতিসংঘের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কার্যক্রম চালু করা উচিত। এছাড়া ইয়েমেনে হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসিত জামাল খাশোগি সৌদি সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার পরিকল্পনার বিরোধী ছিলেন তিনি। ওয়াশিংটন পোস্ট ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক অনুষ্ঠানগুলোতে কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করতেন খাশোগি। তিনি সৌদি রাজপরিবারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।








