জার্মানির পর এবার ফ্রান্সও সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ১৮ জন সৌদি নাগরিকের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ফ্রান্স।
খাশোগি হত্যার ঘটনায় শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে সৌদি আরব। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডেনমার্ক সৌদি আরবে অস্ত্র রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। সৌদি আরবে অস্ত্র রফতানির জন্য লাইসেন্স ইস্যু করা বন্ধ রেখেছে জার্মানি। সোমবার (১৯ নভেম্বর) ১৮ জন সৌদি নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটি। এদিনই ফ্রান্স জানিয়েছিল, খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবে শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সে ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১৮ জন সৌদি নাগরিকের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।
বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ১৮ সৌদি নাগরিকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে বলা হয়েছে, জার্মানির মতো ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘খাশোগি হত্যার ঘটনাটি চরম গুরুতর এক অপরাধ, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অধিকাংশ মৌলিক অধিকারের বিরুদ্ধে যায়।’
ফরাসি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সৌদি নাগরিকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্টমুক্ত শেনজেন অঞ্চলে চলাচল করতে পারবেন না। ফরাসি বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খাশোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বচ্ছ, বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ জবাব আশা করছে ফ্রান্স। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে অন্তর্বর্তীকালীন পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্যারিস। চলমান তদন্তের অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীতে এটি পর্যালোচনা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ৫৯ বছর বয়সি খাশোগি এক সময় সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি যুবরাজের কঠোর সমালোচকে পরিণত হন। গ্রেফতার এড়াতে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাচনে চলে যান খাশোগি। দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে গিয়ে হত্যার শিকার হন খাশোগি। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে খাশোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি আরব জানায়, ইস্তানবুলের কনস্যুলেটে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে খুন হন সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি। এ ঘটনায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও ওঠে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ সে অভিযোগ নাকচ করে আসছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান খাশোগি হত্যার ঘটনায় সরাসরি সৌদি যুবরাজকে দায়ী না করলেও তিনি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের ‘শীর্ষ পর্যায়’ থেকে হত্যার নির্দেশ এসেছে।








