স্থানীয়ভাবে তৈরি নিজস্ব প্রযুক্তির নতুন একটি অস্ত্র বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করেছে ইরানের নৌবাহিনী। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নতুন যুদ্ধজাহাজটিতে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ‘দ্য শাহান্দ ডিস্ট্রয়ার’ নামের জাহাজটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। জাহাজটি একবার যাত্রা শুরু করলে ৫ মাসের মধ্যে কোনও জ্বালানির দরকার পড়বে না। শনিবার এই সাবমেরিনটি পারস্য উপসাগরে ইরানি নৌবাহিনীর বান্দার আব্বাস ঘাঁটিতে যুক্ত করা হয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, শাহান্দ যুদ্ধজাহাজে হেলিকপ্টার অবতরণের ব্যবস্থা, টর্পোডো উৎক্ষেপক, বিমানবিধ্বংসী ব্যবস্থা, জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র, পানির ওপর থেকে অন্য লক্ষ্যবস্তু এবং সমুদ্র থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার ব্যবস্থা রয়েছে।
ইরানের সাবমেরিনটির প্রস্তুতকারক শিপইয়ার্ডের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলীরেজা শেইখি বার্তা সংস্থা ইরনা’কে বলেন, ইরানি নৌবাহিনীর স্থানীয় কারিগরি জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে সাহসী ও সৃজনশীল নকশা করে জাহাজটি তৈরি করা হয়েছে।
সর্বপ্রথম ২০১০ সালে ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে জাহাজ নির্মাণ করে। ১৯৭৯ সালে দেশটিতে ইসলামিক বিপ্লবের আগে থেকে থাকা যন্ত্রপাতি হালনাগাদ করার অংশ হিসেবে তারা জাহাজটি নির্মাণ করেছিল। তখন ইরানের বেশিরভাগ যুদ্ধাস্ত্রই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি।
গত সোমবার ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল হুসেইন খানজাদি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন অস্ত্রসহ সব সামরিক সরঞ্জাম নির্মাণে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের নৌবাহিনী এখন ভারত মহাসাগর, এডেন উপসাগর, বাবেল মান্দেব প্রণালী, দক্ষিণ চীন সাগর ও জিব্রাল্টার প্রণালীতে তৎপর রয়েছে এবং সেখানে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। খানজাদির দাবি, নতুন জাহাজে বিদ্যমান অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দেখে শত্রুরা হতবাক হয়ে যাবে।








