ইয়েমেনের বন্দর নগরী হোদাইদাহতে জাতিসংঘ প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে সংস্থাটির কর্মকর্তারা সেখানে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই আবারও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এতথ্য জানা যায়।
এ মাসেই সুইডেনে ইয়েমেনে যুদ্ধরত পক্ষগুলো হুদাইদাতে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়। গত মঙ্গলবার থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত কমিটির প্রধান গত রবিবার (২৩ ডিসেম্বর) ইয়েমেনের হোদাইদাতে পৌঁছেছেন। পর্যবেক্ষণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নেদারল্যান্ডের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জেনারেল প্যাট্রিক কামার্ট। তার নেতৃত্ব কাজ করবেন ইয়েমেন সরকার ও হুথি বিদ্রোহীদের প্রতিনিধিরা।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ১৮ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি শুরু হলেও শনিবার শহরটিতে গুলির শব্দ শোনা গেছে। সৌদি সামরিক জোটের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও ১৮৩ বার সেটি লঙ্ঘন করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ সরকারি সেনা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি হুথিরা জোটের ওপর হামলা চালাচ্ছে আর কেউই তাদের দায়ী করছে না।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে শুরু হয়েছিল গৃহযুদ্ধ। হুথি ও সালেহ জোট রাজধানী সানা দখল করলে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাদি সৌদি আরবে নির্বাসনে যান। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে হামলা চালানো শুরু করে। সৌদি আরবের দাবি, হুদাইদা বন্দর দিয়ে প্রতিমাসে ৩ থেকে ৪ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় করে, যা দিয়ে তারা ইরান থেকে অস্ত্র কেনে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘর্ষে ভেঙে পড়ে হুদাইদা বন্দরের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা। ইয়েমেনে দেখা দেয় চরম মানবিক দুর্যোগ। হুদাই বন্দরই ইয়েমেনে ত্রাণ সরবরাহের মূল মাধ্যম। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটিতে অন্তত ৮০ লাখ মানুষ অনাহারের ঝুঁকিতে পড়ে।








