সিরিয়ায় আবারও আমিরাতের দূতাবাস চালু

বিদেশ ডেস্ক
২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৪:০৬আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:১১

যু্দ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে আবারও চালু করা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাস। আমিরাতের এই পদক্ষেপকে সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রতি সমর্থন মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

সিরিয়ায় আবারও আমিরাতের দূতাবাস চালু

গৃহযুদ্ধের কারণে দীর্ঘ সাত বছর বন্ধ ছিলো আমিরাতের দূতাবাস। এই সময়ে কোন ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না দেশ দুটির। সিরিয়ায় শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন গৃহযুদ্ধে রূপ নিলে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছেদের ঘোষণা দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত।

আরব আমিরাত জানায়, তারা আরব- সিরীয় সম্পর্ককে জোরদার করতে চান। আমিরাতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গার্গাশ বলেন, সিরিয়ার সঙ্গে আরব বিশ্বের যোগাযোগ খুবই জরুরি।

সাত বছর আগেই সিরিয়াকে আরব লিগের সদস্যপদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়। গার্গাশ বলেন আরব দেশগুলোর অনুমতি সাপেক্ষে সিরিয়া আবার সদস্য হতে পারে।

সিরিয়া থেকে সম্প্রতি সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ঘোষণার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আমিরাত তাদের দূতাবাস খুলে দিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে আরব বিশ্বের  মূলধারায় ফিরিয়ে নিতে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেটিরই অংশ হিসেবে ইউএই দূতাবাস পুনরায় চালু করা হলো। এখন থেকে দুই দেশের মধ্যে পূর্বের মতোই কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে।  সিরিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট ফর্ড বলেন, সিরিয়ায় আমিরাতের দূতাবাস পুনরায় চালুর অর্থ হচ্ছে সুন্নিপন্থী দেশটি আবারও তাদের প্রভাব বিস্তার করতে চায়।

ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান করা এই বিশেষজ্ঞ বলেন ‘আমার মনে হয়, খুব শিগগিরই তারা দামেস্কের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও ‍কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করবে। মূল উদ্দেশ্য, ইরানের প্রভাব কমানো।  ফর্ড বলেন, ‘ইরানের চেয়ে অনেক বড় বেসরকারি খাত রয়েছ আরব আমিরাতের। সিরিয়ার পুননির্মাণে সেটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরবের এক কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেন, আরব লিগের বেশিরভাগ সদস্য রাষ্ট্রই সিরিয়াকে সদস্যপাত দিতে চায়। আরব আমিরাতের এই সিদ্ধান্তে এখনও কোনও মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র।     

সাত বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে এখন সিরিয়ার বেশ কয়েকটি বড় শহরের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের সরকার। ২০১১ সালে যেসব এলাকায় তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল সেসব এলাকা তিনি এখন কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন তার ওপর মনোযোগ বেড়েছে। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ বিরোধীদের শক্তঘাঁটিগুলোতে থাকা বিরোধীদের দমন করতে সরকার ‘ল ১০’ নামে পরিচিত একটি আইন ব্যবহার করতে পারেন বলে ধারণা করছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। 

/এমএইচ/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম