দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রের তলদেশে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবারের এই ভূমিকম্পের পর দেশটির ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সুনামির আশঙ্কায় দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশের মানুষদের সৈকতে অবস্থান এড়ানোর পরামর্শ দেয়। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র দক্ষিণ ফিললিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার জন্য জারি করা সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ এই খবর জানিয়েছে।
ফিলিপাইনের ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলোজি ও সিসমোলোজি জানায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দাভাও শহরের ৬০ দশমিক ১ কিলোমিটার গভীরে। এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার প্রধান রেনাতাও সোলিডাম বলেন, ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর দুই ঘণ্টার জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তিনি বলেন, সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প হলেও এটি বেশ কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় অনভূত হয়েছে।
গত সপ্তাহে ভয়াবহ সুনামির কবলে পড়া প্রতিবেশি দেশ ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতিবিদ্যা বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, ওই ভূমিকম্পের জন্য ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি আঘাত হানার আশঙ্কা নেই।
ভূতাত্ত্বিকভাবে ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান রিং অব ফায়ার-এ। প্রশান্ত মহাসাগরের এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ এবং এই অঞ্চলে প্রচুর সক্রিয় আগ্নেগিরি রয়েছে।
সর্বশেষ ২০১৩ সালে ফিলিপাইনে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে ২২০ জন নিহত হয়। ধ্বংস হয় দেশটির মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক চার্চ। আর প্রতিবেশি ইন্দোনেশিয়ার চলতি বছরে বেশ কয়েকবার আঘাত হেনেছে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। গত সপ্তাহে আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের পর সৃষ্ট ভূমিকম্পের চার শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া গত সেপ্টেম্বর পালু এবং সুলাবেসি দ্বীপে ভূমিকম্প পরবর্তী সুনামিতে ২২০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া ওই সময়ে নিখোঁজ হয় আরও কয়েক হাজার মানুষ। আশঙ্কা করা হয় তারাও নিহত হয়েছেন।








