মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সফরের অংশ হিসেবে সৌদি আরব সফর করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ওই সফরে তার সৌদি যুবরাজের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএস নিউজকে পম্পেও জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার প্রসঙ্গ তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার। শনিবার তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, আমরা ধারাবাহিকভাবে যা বলে আসছি সে কথাই তাকে বলবো।
২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। সৌদি রাজপরিবারের মিত্র থেকে কঠোর সমালোচক বনে যাওয়া এই সাংবাদিককে হত্যার কথা কয়েক দফা অস্বীকার করলেও০ ১৯ অক্টোবর মধ্যরাতে প্রথমবারের মতো হত্যার কথা স্বীকার করে সৌদি আরব। তুরস্কের পক্ষ থেকে হত্যার নির্দেশ দাতা হিসেবে যুবরাজের দিকে আঙুল তোলা হলেও তা অস্বীকার করে সৌদি আরব। তাদের দাবি করে, সৌদি কর্মকর্তারা খাশোগিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলেন। তাকে হত্যার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। তবে ধস্তাধস্তিতে নিহত হন তিনি।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে খাশোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজের নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব পাস করে মার্কিন সিনেট। ওই প্রস্তাবে বলা হয় সিনেট বিশ্বাস করে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জড়িত। এছাড়া ওই প্রস্তাবে সৌদি সরকারকে জামাল খাশোগি হত্যায় দায়ীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
শনিবার সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে পম্পেও বলেন, প্রকাশ্য এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমেরিকার অবস্থান একই। এটা ছিল ভয়ানক একটা কাজ আর অগ্রহণযোগ্য খুন। এই ঘটনায় যারা জড়িত যুক্তরাষ্ট্র তাদের আইনের আওতায় আনবে। আমরা তা করতে বদ্ধপরিকর।
সিবিএস এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পম্পেও খাশোগি হত্যাকাণ্ডকে ভয়ানক আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের মূল্য দেয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করবে।
এর আগে সৌদি আরবের সংবাদপত্র আল আরাবিয়াকে পম্পেও জানান রবিবার সৌদি সফর শুরু করবেন তিনি। সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব নাকি সহযোগিতা- আল আরাবিয়ার এমন প্রশ্নের জবাবে পম্পেও বলেন, আপনার যা ইচ্ছা আপনি তাই বলতে পারেন। আমরা তাদের কাছে যখন যা সহায়তা চেয়েছি তখন তা বাস্তবায়নের অভিযানে তারা দারুণ সহযোগি।








