কেউ পালিয়েছিল স্বজনের মরদেহ ফেলে। কেউ আবার গুলির মুখে দৌড়াতে দৌড়াতে। কেউ আবার নিপীড়িত হওয়ার ভবিতব্য নিয়ে। মিয়ারমার থেকে তারা আশ্রয় নিয়েছিল মালয়েশিয়ায়। তবে সেখানে কাজ করতে হতো অবৈধভাবে। ছিল গ্রেফতার-হয়রানির ভীতি। তাই এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে অনিশ্চিত যাত্রা। কমবেশি একইরকম শোকার্ত অতীত তাদের। স্মৃতিতে একই ধারার সেনা-নৃশংসতা। শিকাগো অঙ্গরাজ্যে এমন ১৬০০ মানুষ এখন স্মৃতির ক্ষতচিহ্নগুলো মুছে ফেলার স্বপ্নে বিভোর। জীবনের ডাকে সাড়া দিয়ে বাঁচার নেশায় ব্যাকুল।
নাসির জাকারিয়া নামের এক রোহিঙ্গা শরণার্থী ২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ২০১৬ সালে তার চেষ্টায় শিকাগোতে গড়ে ওঠে রোহিঙ্গা সাংকৃতিক কেন্দ্র। সেখানে ইংরেজি ও কুরআন শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি এ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ভাষান্তর সেবা ও পুনর্বাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পাদনেও সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। তরুণ ফুটবল দলও পরিচালনা করে তারা। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শিকাগোতে থাকা রোহিঙ্গারা নতুন করে গড়ে নিচ্ছেন তাদের জীবনকে। আর এক্ষেত্রে খুব ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে রোহিঙ্গা সাংস্কুতিক কেন্দ্র।
সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘মাম্মি অ্যান্ড মি’ ক্লাস শেষে শিশুদের নিয়ে বাড়ি ফিরছেন রোহিঙ্গা মায়েরা।
রোহিঙ্গা শরণার্থী জুলাহ একটি ইংরেজি ক্লাসে অংশ নিয়েছেন।
রোহিঙ্গা সংস্কৃতি কেন্দ্রে হোমওয়ার্ক করছে শিশুরা।
২৩ বছর বয়সী সখিনা ইংরেজি ক্লাস শেষ করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। পাশেই খেলছে সন্তানেরা। ছেলে শাফি রুখ খানের বয়স চার। এক বছর বয়সী মেয়ের নাম নুর শরিফা।
মা নাসিমার রেস্টুরেন্ট টি লিফ গার্ডেনে রেজিস্টার হিসেবে কাজ করছেন আইশা
সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নামাজ পড়ছে রোহিঙ্গা শিশুরা।
হোমওয়ার্ক সেশনে রোহিঙ্গা শিশুদের তৈরি করা নেটিভ আমেরিকান কেবিনের একটি মডেল।
শিকাগোতে একটি খেলায় অংশ নিয়েছে রোহিঙ্গা ফুটবল খেলোয়াড়রা।
২০১৪ সালে মালয়েশিযা থেকে শিকাগোতে আসে শুকরের পরিবার। ১৯৭৮ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হওযার পর দেশ ছাড়েন শুকর। তার বাবাকে মিয়ানমারে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি জেলে মারা যান। শুরুতে শুকর নৌকায় করে থাইল্যান্ডে যান। এরপর সেখান থেকে পরিবারসহ রওনা করেন মালয়েশিয়ায়। সেদেশে শুকর ও তার পরিবারের সদস্যদের শিক্ষার সুযোগ ছিল না।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। ৮২-তে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে অস্বীকার করা হয় রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব। এরপর কখনও মলিন হয়ে যাওয়া কোনও নিবন্ধনপত্র,কখনও নীলচে সবুজ রঙের রশিদ, কখনও ভোটার স্বীকৃতির হোয়াইট কার্ড, কখনও আবার ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ কিংবা এনভিসি নামের রং-বেরঙের পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষকে। নাগরিকত্ব অস্বীকার করে রোহিঙ্গাদের রাখাইন ছাড়া মিয়ানমারের অন্যত্র ভ্রমণের অধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গাদের বড় অংশটি বাংলাদেশে আশ্রয় নিলেও কারও কারও প্রচেষ্টা থাকে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেওয়ার। মালয়েশিয়া থেকে কেউ কেউ আবার যুক্তরাষ্ট্রে








