মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে ভেনেজুয়েলাকে যে কোনও মূল্যে রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। সোমবার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এমন অঙ্গীকার করেন। মাদুরো বলেন, আমার জীবন দিয়ে এই দেশকে রক্ষা করবো।
নিকোলাস মাদুরো বলেন, যারা এই দেশে হস্তক্ষেপের জন্য বিদেশিদের আহ্বান জানাচ্ছে, যারা নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী শয়তানের কাছে সঁপে দিয়েছে আমরা সত্যিকারের ভেনিজুয়েলাবাসী তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।
এদিকে ভেনেজুয়েলায় আগাম নির্বাচনের জন্য মাদুরোর ওপর চাপ প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে আঞ্চলিক দেশগুলোর জোট লিমা গ্রুপের অধিকাংশ সদস্য। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, মাদুরোকে উৎখাতের জন্য যেকোনও পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে এ জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মেক্সিকো। ফলে দেশটিকে এ ব্যাপারে রাজি করানোই এখন জোটের অন্য দেশগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি নিজেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন দেশটির বিরোধী নেতা হুয়ান গুইদো। বিরোধী নিয়ন্ত্রিত জাতীয় পরিষদ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দ্বিতীয় মেয়াদে ‘অবৈধ ঘোষণা’র পরই ওই পদক্ষেপ নেন তিনি।
গুইদোর দাবি, প্রেসিডেন্ট অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পর জাতীয় পরিষদ প্রধান হিসেবে সাময়িকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের সাংবিধানিক এখতিয়ার তার আছে।
হুয়ান গুইদো নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণার কয়েক মিনিটের মাথায় তাকে ‘স্বীকৃতি’ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত অন্তত ২০টি দেশ এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করেছে। গুইদোকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রস্তাব পাস করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টও।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, আর কোনও আলোচনার সুযোগ নেই। মাদুরো সরকারকে উৎখাতে সব বিকল্প ইতোমধ্যেই আলোচনার টেবিলে রয়েছে। তার স্বৈরশাসনের মেয়াদ ফুরিয়ে এসেছে। তবে মাদুরো তাকে উচ্ছেদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে নোংরা সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তাকে উৎখাতে জিদ করে থাকেন তাহলে তাকে রক্তে রঞ্জিত হয়ে হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে। স্প্যানিশ সাংবাদিক জোরদি ইভোলি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
নিকোলাস মাদুরো বলেন, ‘থামুন। থামুন, ট্রাম্প! এখানেই থেমে যান! আপনি এমন ভুল করছেন যা আপনার হাতকে রক্তে রঞ্জিত করবে। রক্তের দাগ নিয়ে আপনাকে প্রেসিডেন্সি ছাড়তে হবে। কেন আপনি ভিয়েতনামের পুনরাবৃত্তি চাইছেন?’
ভেনেজুয়েলায় আট দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন দিতে ইউরোপের কয়েকটি দেশ যে আল্টিমেটাম দিয়েছে তাও নাকচ করে দিয়েছেন মাদুরো। তিনি বলেন, আমরা কারও কাছ থেকে আলটিমেটাম গ্রহণ করি না। আমি এই মুহূর্তে নির্বাচনের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করছি। ২০২৪ সালে নির্বাচন হবে। ইউরোপ কী বললো তাকে আমরা গোণায় ধরি না।
নিকোলাস মাদুরো বলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আপনি আল্টিমেটামের ওপর ভর করতে পারেন না। এসব ঔপনিবেশিক সময়কালের জন্য প্রযোজ্য।
নিজের রাজনৈতিক গুরু হুগো শাভেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় আসেন বামপন্থী রাজনীতিক নিকোলাস মাদুরো। ভেনেজুয়েলা ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান এই রাজনীতিক।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলেন, উত্তর আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদীরা হামলা চালালে আমাদের নিজেদের রক্ষা করতে হবে। দেশকে আমরা তাদের হাতে ছেড়ে দেবো না।
তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় কোনও মানবিক সংকট নেই। এখানে যা রয়েছে তা হচ্ছে রাজনৈতিক সংকট।
ভেনেজুয়েলার স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো’কে অভ্যুত্থানের কৌশল থেকে সরে আসারও আহ্বান জানান মাদুরো। তিনি বলেন, আপনি কি করছেন; সে সম্পর্কে সাবধানে চিন্তা করুন।
বর্তমান সংকট যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ানোর আশঙ্কা করছেন কিনা; এমন প্রশ্নের উত্তরে মাদুরো বলেন, সবকিছু নির্ভর করছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং তার পশ্চিমা মিত্রদের উন্মত্ততা ও আগ্রাসনের ওপর। এটা আমাদের ওপর নির্ভর করছে না। তবে নিজেদের অধিকার রক্ষায় ভেনেজুয়েলাও প্রস্তুতি নিচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান।








