সিরিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রাখলে ইসরায়েলকে কঠোর এবং উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার তেহরানে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল মোয়ালেমের সঙ্গে এক বৈঠকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি সামখানি এই হুঁশিয়ারি দেন। ইসরায়েলের হামলাকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে তা সিরিয়ার আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে।
আট বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ এবং তার বাহিনীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে ইরান। দেশটিতে আইএসবিরোধী যুদ্ধেও ইরান ভূমিকা রাখছে। অপরদিকে ইরানকে নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনা করা ইসরায়েল বারবার সিরিয়ায় ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। আগামী এপ্রিলে নিজ দেশে সাধারণ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল সিরিয়ায় বিমান হামলার সংখ্যা বাড়িয়েছে। গত মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সিরিয়া থেকে ইরানকে বেরিয়ে যেতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সেখানে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত থাকবে।
মঙ্গলবার সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি সামখানি বলেছেন, ‘এসব কর্মকান্ড অব্যাহত থাকলে আমরা প্রতিবন্ধক হিসেবে বেশ কিছু গাণিতিক পদক্ষেপ চালু করবো। ইসরায়েলের মিথ্যাবাদী ও অপরাধী শাসকদের শিক্ষা দিতে কঠোর এবং উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে’।
যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সিরিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ততা এড়াতে চায় ইসরায়েল। তবে লেবাননে তাদের শত্রু হেজবুল্লাহ গোষ্ঠীর কাছে আধুনিক অস্ত্র পৌঁছানো ঠেকানোর কথা স্বীকার করে নেয় তারা। আর তা ঠেকাতে সিরিয়ায় হামলার কথা স্বীকার করে তারা। সিরিয়ায় ইরানের সামরিক উপস্থিতিও ঠেকাতে চায় তারা।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সিরিয়ায় ইরানের অস্ত্র মজুদে হামলা চালানোর দাবি করে ইসরায়েল। এছাড়া গত বছরের মে মাসে সিরিয়ায় বেশ কয়েকটি সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল অভিযোগ করে এসব অবস্থান থেকে দখলকৃত গোলান উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল ইরান। একই বছরের জুলাইতে কুনিয়েত্রা প্রদেশে সিরিয়ার তিনটি সামরিক অবস্থানে হামলা চালায় ইসরায়েল।








