যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যিব এরদোয়ান বলেছেন, তার দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার চুক্তি থেকে সরে আসবে না। উল্টো তুরস্ক পরবর্তীতে এস-৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়টি বিবেচনা করবে। বুধবার (৬ মার্চ) সম্প্রচারমাধ্যম কানাল টুয়েন্টি ফোরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো তুরস্ককে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করে থাকে। তবে প্রতিরক্ষা খাতে পুরোপুরি ইউরোপের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না আঙ্কারা। এজন্য তারা রাশিয়ার কাছ থেকেও অস্ত্র কেনায় মনোযোগী হয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তুরস্ক ঘোষণা দেয়, ২০২০ সাল নাগাদ রাশিয়ার কাছ থেকে দুটি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরেছে তারা। তুরস্কের এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ার করে বলা হয়, রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার মধ্য নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে করা প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো ক্ষুণ্ণ হতে পারে। গত বছরের জুনে মার্কিন সিনেটে পাস হওয়া বিলে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি স্থগিত করা হয়। ওই সময়ে বলা হয়, তুরস্ক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনছে। তাদের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থাকলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এসব হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন, তার দেশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে না। কানাল টুয়েন্টি ফোরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনা সংক্রান্ত কাজ শেষ করেছি, রুশদের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে আমরা উৎপাদন শুরু করবো।’
উল্লেখ্য, রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে এটি ব্যবহার করা হয়। ব্যালাস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যভেদের আগেই নিষ্ক্রিয় করতে পারে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।








