নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের একটি বাড়িতে পুলিশের তল্লাশির পর ওই বাড়ির এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর এই মৃত্যুর কারণ খুঁজছে তার পরিবার। বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এয়ারগান পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে ক্রাইস্টচার্চের সেন্ট মার্টিনসের বাড়িটিতে তল্লাশি পরোয়ানা বাস্তবায়ন করে পুলিশ। নিউজহাব জানিয়েছে, বাড়ির মালিক ট্রয় ডুবোভস্কি পুলিশ আসার আগেই পালিয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ তাকে রিচমন্ড পার্ক এলাকায় থামানো হয়। বুধবার সকালে পুলিশের কাছে উপস্থিত হয়ে পুত্রের মৃত্যুর কারণ জানতে চান ট্রয়ের বাবা। তিনি দাবি করেন, তার ছেলে সন্ত্রাসী বা শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ছিল না।
১৫ মার্চ (শুক্রবার) ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামের সন্দেহভাজন হামলাকারীর লক্ষ্যবস্তু হয় নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদ। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদসহ লিনউডের আরেকটি মসজিদে এই শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীর তাণ্ডবের বলি হয় অর্ধশত মানুষ। ওই হামলার পর ক্রাইস্টচার্চে সন্দেহজনক কিছু দেখলেই নাগরিকদের পুলিশে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার নিহত ট্রয় ডুবোভস্কির বাবা ভ্লাড ডুবোভস্কি বলেন, এটা জঘন্য, সন্ত্রাস নিয়ে যা হচ্ছে তা জঘন্য। সে সন্ত্রাসী ছিল না... ভালো মানুষ ছিল। সে পুলিশের ওপর হামলা চালায় নি কিন্তু কেন তার মৃত্যু হলো আমি জানি না, কোনও ব্যাখ্যাও দেওয়া হচ্ছে না।
পুলিশ কর্মকর্তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সশস্ত্র পুলিশ স্কোয়াডের সদস্যরা এবং ঈগল হেলিকপ্টার।
পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে তিনটার দিকে তারা ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত গাড়িটির কাছে যায়। সেখানে মারাত্মক আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ছুরিকাঘাতে আহত ছিলেন তিনি। গাড়িতে একটি ছুরি পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ বলছে, ওই ব্যক্তির গাড়িটি নিউ জিল্যান্ডের প্রতিরক্ষাবাহিনীর বিস্ফোরক তদন্ত দল পরীক্ষা করে দেখেছে। তবে তাতে কোনও বিস্ফোরক পাওয়া না যাওয়ায় সেটিকে নিরাপদ ঘোষণা করা হয়েছে। গাড়িতে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়নি।
ট্রয় ডুবোভস্কির বাবা বলেন, তার ছেলের আগ্নেয়াস্ত্রে আগ্রহ ছিল। কিন্তু সে প্রায়ই এয়ারসফট রাইফেল ব্যবহার করতো। বাতাসের শক্তিকে কাজে লাগানো এই বন্দুকে প্লাস্টিকের গুলি ব্যবহৃত হয়।
নিহত ব্যক্তি কমিউনিটির ওপর কোনও হুমকি সৃষ্টি করেছিলেন কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। এই তদন্তের অংশ হিসেবে ক্রাইস্টচার্চের বাড়িটিতে আরও তল্লাশি ছাড়াও তার পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং সহযোগীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, এই মুহূর্তে ১৫ মার্চের হামলার সঙ্গে নিহত ব্যক্তির কোনও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে এটি তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুলিশ বলছে, এক্ষেত্রে যারা আমাদের সতর্ক করেছিলেন তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। মানুষকে সজাগ থাকার উৎসাহ দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিছু দেখে থাকলে কিছু বলুন। উদ্বেগজনক কিছু দেখামাত্রই ১১১-এ ফোন করুন।








