নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে এক প্রতিদ্বন্দ্বী সুপারমার্কেটে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন দোকান মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, দোষী সাব্যস্ত হলে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে মামুনার খান নামের ওই বাংলাদেশির।
ওজন পার্কে অবস্থিত দেশি বাজার নামের একটি দোকানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মামুনার। কাছাকাছি এলাকাতের প্রিমিয়াম সুপারমার্কেট নামে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দোকান রয়েছে। এ বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রিমিয়াম সুপারমার্কেটে অগ্নিসংযোগের প্রচেষ্টা চালানো হয়। দোকানটির কর্তৃপক্ষের দাবি, মামুনারই সেখানে আগুন লাগানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। প্রসিকিউটরদের উপস্থাপিত ভিডিওতে দেখা গেছে, মামুনার সুপারমার্কেটে ঢুকে অজানা এক দাহ্য পদার্থে আগুন ধরিয়ে দেন এবং একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ এসইউভি-তে চেপে পালিয়ে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি রিচার্ড পি. ডোনোঘুয়ে বলেন, ‘অভিযোগপত্রে দায়েরকৃত অভিযোগ অনুযায়ী, মামুনার খান একটি সুপারমার্কেটে আগুন দিয়েছেন। দোকানটি তখন খোলা ছিল উল্লেখ করে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আগুন দেওয়ার সময় কর্মচারী, ক্রেতা ও আগুন নেভাতে আসা দমকলকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়কে পুরোপুরিভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বীর সম্পদ জ্বালিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা একটি গুরুতর ও সহিংস অপরাধ। আমরা এবং আমাদের আইনি সহযোগীরা মিলে এ ধরনের অপরাধের সাজা নিশ্চিত করব।’
প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ঘটনার পরদিন বাংলাদেশে চলে আসেন মামুনার। তিন মাস পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামুনার খানের বিরুদ্ধে ‘জেনেবুঝে, ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষপূর্ণভাবে’ আগুন দিয়ে একটি ভবন ও অন্য ব্যক্তিগত সম্পদ নষ্ট করার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববর্তী সময়ে মামুনার অভিযোগ করেছিলেন, প্রিমিয়াম সুপারমার্কেটে দাম কম নেওয়ায় তার সুপারমার্কেটের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দোষী সাব্যস্ত হলে মামুনার খানকে ন্যুনতম পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মামুনার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এগুলো ‘মিথ্যা অভিযোগ’।








