অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করা মার্কিন এক দফতরের কর্মী সংখ্যা কমিয়ে ফেলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিগত দুই বছরে এর কর্মী সংখ্যা কমে গেছে ৭০ শতাংশ। প্রায় অর্ধশতাব্দী পরে প্রথমবারের মতো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছ যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
বিগত কয়েক বছরেই যুক্তরাষ্ট্রে অনেক গুলির ঘটনা ঘটছে। প্রত্যেকবার বন্দুক হামলায় প্রাণহানির ঘটনার পর সামনে আসে দেশটির অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের বিষয়টি। বন্দুক হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতাকে দায়ী করা হয়।
পররাষ্ট্র দফতরের স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাবিলিটি অ্যান্ড ডিটারেন্স অ্যাফেয়ার্স নামের ওই দফতরের মূল কাজ হলো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গবেষণা করা। ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার সময় এই দফতরের কর্মী সংখ্যা ছিলো ১৪ জন। সাবেক কর্মীরা জানিয়েছেন, এখন সেই সংখ্যা মাত্র চারজন। তবে পররাষ্ট্র দফতর থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র দফতর ‘নিরস্ত্রীকরণের পরিবেশ তৈরির প্রতি জোর দিচ্ছে। যাদের পরমাণ অস্ত্র নেই তাদের মাধ্যমে পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোকে নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে উৎসাহিত করছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যেই্ এই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি সীমাবদ্ধ থাকবে কি না সেই প্রশ্নও উঠেছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ‘নিউ স্টার্ট’ এক্সটেনশনের সমর্থন করেন তিনি। কিন্তু সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে বলেও সতর্ক করে দের পুতিন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনই আলোচনা শুরু না করলে হবে না। এখন আনুষ্ঠানিকতার সময়ও নেই আমাদের হাতে। তবে সম্প্রতি শেষ হওয়া জি-২০ সম্মেলনে ট্রাম্প ও পুতিন এই বিষয়ে কোনও আলোচনা করেছে নাকি তেমন কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।
এদিকে অস্ত্র আইন কঠোর নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অনাগ্রহ নতুন কিছু নয়। লবিস্ট গ্রুপের জোরালো প্রচেষ্টার কারণে বারবার থেমে যায় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর করার প্রচেষ্টা। এরপর আইন কিছুটা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় ট্রাম্প প্রশাসন। অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর জীবনবৃত্তান্ত যাছাইয়ের আওতা বৃদ্ধি, বয়স সীমা বৃদ্ধি এবং আদালতের অনুমতি ছাড়াই পুলিশকে সন্দেহভাজনের অস্ত্র বাজেয়াপ্তের ক্ষমতা দিয়ে অস্ত্র আইন সংশোধনের পরিকল্পনার বিস্তারিত জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।








