ভারতের মুর্শিদাবাদে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির গড়েছেন সেখানকার মসজিদের একজন ইমাম। এক হিন্দু প্রতিবেশীর মরদেহ সংস্কারে এগিয়ে এসেছেন তিনি। কেবল তা-ই নয়, মৃত ব্যক্তির শ্মশানযাত্রায়ও শরিক হয়েছেন। ভারতজুড়ে যখন সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে পড়ছে, তখন এই ঘটনা সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদ জেলার সুতির মোমিনপুর নামের এক গ্রামে পাঁচশ পরিবারের বসবাস। এরমধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু পরিবার মাত্র দুটি। সোমবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই গ্রামে মারা যান গণেশ রবিদাস (৪৫)। নুন আনতে পান্তা ফুরনো পরিবারে মৃতদেহ সৎকারের খরচ জোগানো কষ্টকর ছিল।
মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল ইসলাম গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যান গণেশের বাড়িতে। জাকির-নুরুলরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অন্তিম যাত্রায় সঙ্গী হন হিন্দু প্রতিবেশীর। কেউ বাঁশ কেটে আনেন, কেউ খই ছিটালেন, কেউ আবার ঘাটকাজের জন্য নতুন কাপড় কিনে আনেন এক দৌড়ে। মৃত গণেশের স্ত্রী সনকা রবিদাস বলেন, ‘আমাদের বিপদের সময় যেভাবে মুসলিমরা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা সত্যিই খুব ভালো লাগছে। আমরা এখানে একসঙ্গে বসবাস করি। আমাদের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ নেই।’
মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষে মানুষে ভেদাভেদ নয়, সকলে সম্প্রীতির বন্ধনে থাকতে চাই। প্রতিবেশীর পাশে থাকা আমাদের নৈতিক কর্তব্য। হিন্দু, না মুসলিম ধর্ম দেখে নয়। মৃত গণেশ আমাদের প্রতিবেশী। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ বলেন, ‘মুর্শিদাবাদ জেলা বরাবরই সম্প্রীতির মেলবন্ধনের জায়গা। সুতির মোমিনপুরে যে ঘটনা ঘটেছে, সেই উদাহরণ সব জায়গায় তুলে ধরা হবে। সহিষ্ণুতাই পরম ধর্ম।’








