যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই এডেন উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ইরান। সোমবার দেশটির সেনাপ্রধান বলেন, ওই সাগরে ডেস্ট্রয়ার ও হেলিকপ্টার বহনে সক্ষম যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে ইরান।তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
পরমাণু চুক্তি নিয়ে মতানৈক্যের পর ইরানের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে উপসাগরীয় এলাকায় বিমানবাহী রণতরী ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। আরব উপসাগরে সাম্প্রতিক দুটি ট্যাংকার বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে মধ্যপ্রাচ্যে আরও এক হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক’ নামের একটি ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি জাহাজ রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাপ্রধান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জলজাহাজের নিরাপত্তা দিতে এডেন উপসাগরে ডেস্ট্রয়ার ও হেলিকপ্টার বহনে সক্ষম জাহাজ পাঠিয়েছে ইরান।’
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া সাক্ষাতাকারে অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সায়েরি বলেন, ‘গত বছর চালু করা ডেস্ট্রয়ার ‘শাহান্দ’কে এডেন সাগরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পাঠানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এডেন উপসাগর ও ওমান সাগরে দেশটির শিপিং জাহাজগুলোকে রক্ষা করবে এই যুদ্ধজাহাজ।
এদিকে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানাচ্ছে, অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম প্রযুক্তি দিয়ে সজ্জিত এই শাহান্দ ডেস্ট্রয়ার। তবে ইরানি সেনাবাহিনীর সফলতা বা স্বোপার্জনে অতীতে কখনও এই শাহান্দের কার্যক্রম দেখানো হয়নি বা স্বাধীনভাবে এর সক্ষমতা নির্ণয় করা যায়নি।
শুক্রবার ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ দাবি করেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র জাহাজগুলোকে ‘হয়রানি করছে’ ও নদীপথের স্বাধীনতা হরণ করছে। তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় উল্লেখ করে জাভেদ বলেন, উপসাগরে পশ্চিমাদের নৌযানের বৃদ্ধি ‘দুর্ঘটনা’র ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
জুনে হরমুজ প্রণালীতে দুইটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মাঝে এই ঘোষণা দিলো তেহরান। তখন ওই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছিলো ওয়াশিংটন তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে তেহরান। ওই হামলার পর ইয়েমেন ও ইরানের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিদেশি তেল ট্যাংকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গঠনের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র।
পারস্য উপসাগরের পূর্ব দিকে ওমান উপসাগর অবস্থিত। হরমুজ প্রণালী কৌশলগত কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জলপথে তেল সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশ এই প্রণালী দিয়ে বহন করা হয়। ইয়েমেনের দক্ষিণে অবস্থিত এডেন উপসাগর; যা আরব সাগর হয়ে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত।








