ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার দাবি, উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তাকে অনুরোধ করেছেন। অনুরোধ করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে আভাস, ইমরান খানই তার কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি বৃহৎ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই হামলার পর সৌদি আরবের তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। যুক্তরাষ্ট্রের তরফে স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে হামলার নেপথ্যে ইরান জড়িত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। হামলার পর ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা দায় স্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার পেছনে ইরানকে দায়ী করে আসছে। যদিও ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করছে। ফলে নতুন করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প ও ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি দুজনের সঙ্গেই বৈঠক করেছেন ইমরান খান। এর আগে দুই দিনের সৌদি সফরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও তার বৈঠক হয়েছে।
নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের এই সমাবেশে সাংবাদিকদের ইমরান খান বলেন, ট্রাম্প আমাকে বলেছেন, যদি আমি উত্তেজনা কমাতে পারি, তবে আরেকটি চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত হয়েছি। আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করবো। মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পরেই রুহানির সঙ্গে বসেছি। এখন অবশ্য এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারছি না। মধ্যস্থতার চেষ্টা করা ছাড়া এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব নয়।
সৌদি যুবরাজও তাকে একই অনুরোধ করেছেন বলে দাবি করেন ইমরান খান। তিনি বলেন, সৌদিতে তেল স্থাপনায় গত সপ্তাহের হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও আমাকে ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাপ করতে বলেছেন।’
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তিনি তার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও কথা বলেননি। তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে তিনি (ইমরান খান) আমার কাছে অনুরোধ করেছেন। তিনি মনে করেন, ইরানি নেতার সঙ্গে আমার বৈঠকের ধারণাটি চমৎকার। আমরা দুজনেই এখানে রয়েছি। আমরা নিউইয়র্কে, সেটি করার সময় আমাদের রয়েছে। গত দুদিনে আমরা অনেক কূটনৈতিক বৈঠক করেছি।








