সরকার গঠনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেই নতুন সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রুভেন রিভলিন। তিনি জানান, এই মুহূর্তে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুই এগিয়ে রয়েছেন।
১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্টে সরকার গঠন করতে অন্তত ৬১ আসন পাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় কোনও দলই এককভাবে সরকার গঠন করার অবস্থায় নেই। ইসরায়েলের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর রবিবার বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট। এ পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু ও গান্টজ, দুজনই সরকার পরিচালনার মতো জোট গঠনের উদ্যোগে উভয়কে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এমন বাস্তবতায় ১৩টি আসন নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা আরব দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্ট জানায়, তারা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়। এমন বাস্তবতায় জোট গঠনে সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে গান্তজের জোটের আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৭-তে। সে সময় পর্যন্ত নেতানিয়াহু নিজ দলের বাইরের সমর্থনসহ ৫৫ আসন নিশ্চিত করতে সমর্থ হন। পরে আরব জোটের একটি দল গান্টজকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বালাড নামের ওই দলের আসন সংখ্যা ৩। সেই ৩ আসন কমে এখন গান্টজের হাতে রয়েছে ৫৪ আসন। জোট সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় নেতানিয়াহুর থেকে এখন একটি আসন পিছিয়ে রয়েছেন তিনি।
নেতানিয়াহুকে পাশে রেখে প্রেসিডেন্ট রিভলিন বলেন, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু এগিয়ে রয়েছেন। তার কাছে ছয় সপ্তাহ সময় রয়েছে।
ইসরায়েলে প্রেসিডেন্টের পদ মূলত আনুষ্ঠানিকতার। প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য তিনি যে কাউকেই মনোনীত করতে পারেন। স্বাভাবিকভাবে এটা খুব সহজ সিদ্ধান্ত হয়। তবে এবারের নির্বাচনের ফল বিষয়টাকে জটিল করে তুলেছে। কোনও দলেরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় প্রেসিডেন্ট জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এতে নেতানিয়াহু রাজি হলেও সায় দেননি গান্তজ। তারা নিজেরা জোট গঠন না করলে প্রেসিডেন্ট যে কাউকেই মনোনীত করতে পারেন। সেই প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহ পাবেন। তবে ব্যর্থ হলে বিকল্প প্রার্থীকে সুযোগ দেবেন প্রেসিডেন্ট
বেনি গান্তজের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকায় এই সুযোগ পেয়েছেন নেতানিয়াহু। পার্লামেন্টে আসন পাওয়া দলগুলোকে রাজি করাতে এবং সরকার গঠনে এই সময়ই পাবেন তিনি। সেটা সম্ভব না হলে প্রেসিডেন্ট বিকল্প প্রার্থীকে সুযোগ দেবেন।
চলতি বছর এটি ইসরায়েলের দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচন। এর আগে এপ্রিলে প্রথম নির্বাচনের পর জোট গঠনের আলোচনা ব্যর্থ হয়। পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আবারও নির্বাচনের পক্ষে ভোট দেন আইনপ্রণেতারা। নতুন নির্বাচনের পরও পরিস্থিতির খুব একটা হেরফের না হওয়ায় আরেকটি অচলাবস্থার মুখে ব্ল অ্যান্ড হোয়াইট অ্যালায়েন্স ও লিকুদ পার্টিকে জোট গড়ার মাধ্যমে সরকার গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিভেন রিভলিন। তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যে ইসরায়েলে তৃতীয় সাধারণ নির্বাচন এড়াতে তার পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব সবটাই করবেন।








