বিদেশি হস্তক্ষেপ অবসানের দাবি ইরাকি বিক্ষোভকারীদের

বিদেশ ডেস্ক
০৩ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৪১আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৪৩
image

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরাকে চলমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে সংস্কারের দাবিতে জনগণের আন্দোলন তীব্র হচ্ছে। দেশটিতে শনিবার (২ নভেম্বর) পুলিশের হামলায় এক বিক্ষোভকারী নিহত ও ৯১ জন আহত হওয়ার পর আন্দোলনে তীব্রতা বেড়েছে। দেশটির তেলসমৃদ্ধ নগরী বসরার কাছে প্রধান উপসাগরীয় বন্দর উম্মে কাসারগামী সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। এর ফলে গত বুধবার থেকে বন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। কর্মসংস্থানের সংকট ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে চলা বিক্ষোভে এখন অনেকে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের অবসান দাবি করছে।

বিদেশি হস্তক্ষেপ অবসানের দাবি ইরাকি বিক্ষোভকারীদের

১ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মসংস্থানের সংকট, নিম্নমানের সরকারি সেবা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বাগদাদের রাজপথে নামেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের অনুসারী না হয়েও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আওয়াজ নিয়ে রাজপথে নামেন আন্দোলনকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও গুলি চালিয়ে তাদের ওপর চড়াও হলে এই বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে ওঠে, ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহরে। এসব বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ২৫০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে আট হাজার মানুষ। তবে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বিক্ষোভকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের মধ্যেই ইরাক সরকারের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিবেশী দেশ ইরান।

খবরে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের অনেকেই এখন ইরাকের রাজনৈতিক শ্রেণিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আজ্ঞাবহ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তারা মূলত আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের জন্য ইরাককে ‘প্রক্সি’ ভূমি হিসেবে ব্যবহার করছে।

আহমেদ আবু মারিয়াম নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে না সৌদি আরব, না তুরস্ক, না ইরান, না আমেরিকা, কারও হস্তক্ষেপ চাই না। এটি আমাদের দেশ, আমাদের দাবিগুলো পরিষ্কার।’

২০০৩ সালের পর ইরাকের শাসনব্যবস্থাকে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলো ভাগ করে নিয়েছে। একারণে মূলত তাদের ক্ষোভ। বিদেশিদের হস্তক্ষেপমুক্ত ইরাক তাদের প্রত্যাশা।

২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আব্দুলরহমান সাদ বলেন, ‘আমরা সাম্প্রদায়িক শক্তির ক্ষমতা ভাগাভাগির অবসান চাই। আপনি শিয়া না সুন্নি, এটার ওপর ভিত্তি করে চাকরি দেওয়া উচিত নয়। আমরা চাই এদের অপসারণ। ফিরে আসুক রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা।’

 

/এইচকে/এএ/
সম্পর্কিত
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
সর্বশেষ খবর
রামিসা হত্যা: সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ, লঘুদণ্ডের দাবি আসামিপক্ষের
রামিসা হত্যা: সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ, লঘুদণ্ডের দাবি আসামিপক্ষের
একা একা অনুশীলন করলেন মেসি
একা একা অনুশীলন করলেন মেসি
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের