ইরাকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের ওপর তাজা গুলি চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। এতে পাঁচজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। তাদের দাবি, রাবার বুলেটের আঘাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
গত ১ অক্টোবর থেকে কর্মসংস্থানের সংকট, নিম্নমানের সরকারি পরিষেবা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বাগদাদের রাজপথে নামেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের অনুসারী না হয়েও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আওয়াজ নিয়ে রাজপথে নামেন আন্দোলনকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও গুলি চালিয়ে তাদের ওপর চড়াও হলে এই বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে ওঠে, ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহরে। বিশেষ করে শিয়া অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করে। কর্মসংস্থানের সংকট ও দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ শুরু হলেও সেটি এখন সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী আল-জাজিরাকে জানান, পুলিশ টিয়ার গ্যাস নয়, তাজা গুলি চালিয়েছে। আর এই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়ে থাকতে পারেন। এক মেডিক্যাল সূত্র জানায়, আন্দোলনে ৩ জন আহত হয়েছে এবং তাদের বেশিরভাগেরেই শরীরে গুলির চিহ্ন। কারও কারও মাথায় গুলি লেগেছে। হতাহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক সবাই আছেন।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদির এক মুখপাত্র দাবি করেন, গোলাগুলিতে কেউই নিহত হননি। তবে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সও পাঁচজন নিহতের কথা জানিয়েছে। তাদের ভিডিও ফুটেজে দেকা যায়। িএকজন বিক্ষোভকারীর ওপর তাজা গুলি চালিয়েছে পুলিশ। রয়টার্সের ক্যামেরাপার্সন জানান, আরও অন্তত চারজনকে হত্যা করতে দেখেছেন তিনি।
তবে নিরাপত্তা ও মেডিক্যাল সূত্র জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা একজন এবং আহত হয়েছে ২২ জন। তবে সেটা রাবার বুলেটের কারণে। কোনও তাজা গুলি চালানো হয়নি।
এদিকে নেটব্লকস নামে একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, বাগদাদসহ বেশ কিছু অঞ্চলে সোমবার রাতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত মাসে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর এমন ঘটনা এবারই প্রথম। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জাতীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার ১৯ শতাংশ কার্যকর ছিলো। বাগদাদের কোটি কোটি গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত। ইরাকের ইতিহাসে এমন ঘটনা প্রথম ঘটলো।
যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা এপিও বাগদাদে সংঘর্ষের খবর জানিয়েছে। তারা জানায়, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছোড়ে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্য তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসে। সেসময় গুলির শব্দও শোনা যায়।
পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে এপি জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন বিক্ষোভকারী ও একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।








