জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া তীব্র আন্দোলনে ‘ভাড়াটে বিক্ষোভকারীরা’ অংশ নিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশজুড়ে আটক হওয়া ‘ভাড়াটে বিক্ষোভকারীদের’ কঠোর শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে দেশটি। রবিবার দেশটির অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)-র ডেপুটি কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি এমন অঙ্গীকার করেন।
১৫ নভেম্বর ইরানি কর্তৃপক্ষ সরকারি রেশনে দেওয়া পেট্রোলের দাম ৫০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। লিটার প্রতি রেশনের পেট্রোলের দাম ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার রিয়াল করার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ হিসেবে তেলের পরিমাণ ৬০ লিটার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এর বাইরে বাড়তি পেট্রোলের প্রয়োজন পড়লে লিটার প্রতি দাম পড়বে ৩০ হাজার রিয়াল। সরকারের ওই ঘোষণার পরই দেশজুড়ে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ রূপ নেয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বিক্ষোভে ইরানজুড়ে অন্তত ১১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন আরও সহস্রাধিক মানুষ।
বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কঠিন সাজা দিতে বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইআরজিসি-র ডেপুটি কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি।
ইরানি সামরিক বাহিনীর এই ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা বলেন, সেসব বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছে যারা প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাড়াটে হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছে। ঈশ্বর চাইলে এ দেশের বিচার ব্যবস্থার মধ্যেই তাদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হবে। সূত্র: আল জাজিরা।








