যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিলে প্রতিশোধ নেবে তুরস্ক

বিদেশ ডেস্ক
১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৪:০০আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৪:০৭

যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু। রাশিয়ার সঙ্গে আঙ্কাকার মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার চুক্তি নিয়ে ওই নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। কাতারের রাজধানী দোহায় এক সম্মেলনে শনিবার কাভুসোগলু্ বলেন, ‘পরিণতি যাই হোক না কেন’ এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করবে না তুরস্ক। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু

সাধারণত তুরস্ককে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। তবে প্রতিরক্ষা খাতে পুরোপুরি ইউরোপের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না আঙ্কারা। এজন্য রাশিয়ার কাছ থেকেও অস্ত্র কেনায় মনোযোগী হয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার ঘোষণা দেয়। তুরস্কের এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয় যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি অনুযায়ী এ বছরে দুই চালানে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা হাতে পেয়েছে আঙ্কারা। নতুন করে আবারও ওই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি করার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। তুরস্কের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি স্থগিত করেছে। আঙ্কারার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়ে আসছে তারা।

শনিবার দোহায় মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা ও হুমকিমূলক ভাষায় কোনও কাজ হবে না। যদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাই হয় তাহলে তুরস্ক পাল্টা ব্যবস্থা নেবে’।

রাশিয়ার কাছ থেকে এস ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনা ও উত্তর সিরিয়ায় সাম্প্রতিক অভিযান চালানোর কারণে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তে গত সপ্তাহে সমর্থন দিয়েছে মার্কিন সিনেটররা। তাৎক্ষণিকভাবে ওই পদক্ষেপের নিন্দা জানায় তুরস্ক।

সিনেটের পদক্ষেপকে আঙ্কারার বিরুদ্ধে কঠোর হতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ প্রয়োগ হিসেবে দেখছে তারা। রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক দণ্ড আরোপ করতে ২০১৭ সালেই এক আইনে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তুরস্কের ওপর এখনও কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি ট্রাম্প প্রশাসন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলছেন, রাশিয়ার কাছ থেকে এস ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনা তাদের জন্য অপরিহার্য ছিল। দোহায় তিনি বলেন, ‘আমরা একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য খুবই মরিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যদের কাছ থেকে এটা কেনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তা পারা যায়নি। তবে এটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

 

/জেজে/বিএ/
সম্পর্কিত
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
সর্বশেষ খবর
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে:  প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের