যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটি জানায়, হামলার নির্দেশকারীকে বিচারের আওতায় না আনা পর্যন্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না।
২০১৮ সালের অক্টোবরে ইস্তানবুল দূতাবাসে সৌদি এজেন্টদের হাতে খুন হন যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা সাংবাদিক জামাল খাশোগি। দেশটির প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মোট ৩১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়। এদের মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। সোমবার ঘোষিত রায়ে তাদের মধ্যে তিন জনকে মোট ২৪ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাকিদের খালাস দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের কারও নামই তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ এক টুইটে জানান, ‘জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমনটা বলা যাচ্ছে না। কারণ, অভিযুক্ত হত্যাকারীদের মাধ্যমে এখনও সবাই জানে না যে কে তাদের নির্দেশ দিয়েছিলো।
প্রাথমিক রায়ে এই পাঁচ জনের সাজা দেওয়ায় এই অপরাধের বিস্তারিত জানার সুযোগ আরও কমে গেছে বলে মন্তব্য করেন রথ। তিনি বলেন, খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরব আসলে লজ্জাজনক ভূমিকা প্রদর্শন করেছে। এমন দুজনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে যারা নির্দেশ দিয়েছিলো। খুব সম্ভবত সৌদি যুবরাজের নির্দেশনাতেই তারা এমন কাজ করেছিলেন।
এর আগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মুখপাত্র আহমেদ বেনচেমসি বলেছিলেন, সৌদি আরবের রায় সন্তোষজনক নয়। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মামলাটি নিয়ে গোপনীয়তা অবলম্বন করেছে সৌদি আরব। মুখোশ পরা অভিযুক্তদের পরিচয় আমরা জানি না, কার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে তাও জানি না’। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও সৌদি আরবের রায়কে হোয়াইটওয়াশ আখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এতে ন্যায়বিচারও যেমন হয়নি তেমন জামাল খাশোগি ও তার প্রিয়জনদের সামনে সত্য উন্মোচন করেনি।








