গাড়ি নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান নিশানের সাবেক প্রধান কার্লোস গোয়েনকে গ্রেফতারে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। আর্থিক অসদাচরণের অভিযোগে জাপানে বিচারের মুখে থাকা অবস্থায় লেবাননে পালিয়ে যান তিনি। বৃহস্পতিবার ইন্টারপোলের নোটিশটি গ্রহণ করেছে লেবাননের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এটি এখনও বিচারিক কার্যক্রমে পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
টোকিওতে কড়া নজরদারিতে থাকা সত্ত্বেও গত সপ্তাহে লেবাননে পালিয়ে যান কার্লোস গোয়েন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নিজের বাড়িতে গান পরিবেশন করতে আসা একটি দলের সহায়তায় বাদ্যযন্ত্রের বাক্সে করে পালিয়ে যান তিনি। একটি প্রাইভেট বিমানে বাক্সটি তুরস্কের ইস্তানবুল হয়ে বৈরুতে পৌছায়।
ইস্তানবুল হয়ে গোয়েনের লেবানন যাত্রার অভিযোগ সামনে আসায় এনিয়ে তদন্ত শুরু করেছে তুরস্ক। তুর্কি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে চার জন পাইলট, একটি কার্গো কোম্পানির ম্যানেজার ও বিমানবন্দরের দুই কর্মী রয়েছে।
লেবাননের সঙ্গে জাপানের বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকায় কার্লোস গোয়েনকে টোকিওতে ফিরিয়ে নেওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। এমন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতারে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল। এই নোটিশের মাধ্যমে সন্দেহভাজন কোনও ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে গ্রেফতার করতে সদস্য দেশগুলোকে অনুরোধ জানায় ইন্টারপোল। ওই ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ, সমর্পণ বা অন্য যেকোনও বিচারিক সিদ্ধান্ত পরে নেওয়া হয়।
লেবাননি বংশদ্ভুত কার্লোস গোয়েনের জন্ম ব্রাজিলে। এরপর তার ছোটবেলা কাটে লেবাননের বৈরুতে। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ফ্রান্স ও কর্মক্ষেত্র জাপানে বসবাস করেন তিনি। এর ফলে লেবানন, ব্রাজিল, ফ্রান্স ও জাপানের পাসপোর্ট রয়েছে তার। ফ্রান্সে প্রবেশ করলে তাকে ফেরত পাঠানো হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে প্যারিস। ২০১৮ সালে জাপানে গ্রেফতার হওয়ার আগে গোয়েনের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পরে কঠোর শর্তের অধীনে জামিন পেয়ে পালানোর আগ পর্যন্ত টোকিওতে নিজ বাসভবনে বসবাস করছিলেন তিনি।








