ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলাইমানি-র হত্যাকাণ্ডের পর তার বাড়িতে গিয়ে সান্তনা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। শুক্রবার রাতে বাড়িতে গিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
নিহতের স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে দেখা করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, জেনারেল সোলাইমানি এ পর্যন্ত বহু বার এমন অবস্থার মুখে পড়েছেন যে, তখনও তিনি শহীদ হয়ে যেতে পারতেন। তিনি আল্লাহর পথে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনও কিছুকেই পরোয়া করতেন না।
আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, জেনারেল সোলাইমানির জিহাদ ছিল অনেক বড় জিহাদ। আল্লাহ তাআলাও তাকে অনেক মর্যাদাপূর্ণ শাদাহাৎ দান করেছেন। এটি আল্লাহ তাআলার রড় নিয়ামত। তিনি এই নিয়ামতের যোগ্য ছিলেন।
জেনারেল সোলাইমানির মেয়েকে উদ্দেশ্য করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, তোমার বাবার জন্য গোটা জাতি কাঁদছে। এটা হয়েছে ইখলাসের কারণে। জনগণ তোমার বাবার মর্যাদা উপলব্ধি করেছে। তার মধ্যে ইখলাস ছিল বলেই আজ মানুষ এভাবে তার জন্য শোক পালন করছে।
সর্বোচ্চ নেতা ছাড়াও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছেন।
এদিকে জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর বৈশ্বিক তেল সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাকে হত্যার পরপরই কঠোর প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তেলের দাম বেড়েছে ৪ শতাংশ। এরই মধ্যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রতিশোধের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটনের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হতে পারে।
শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন রকেট হামলায় নিহত হন জেনারেল কাসেম সোলায়মানি। সিরিয়া ও ইরাকে ইরানের অবস্থান সুসংহত করতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সূত্র: পার্স টুডে, সিএনএন।








