মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাংস্কৃতিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার যে হুমকি দিয়েছেন, তাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে দেখছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ওই হুমকি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলেও রবিবার এর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হলে ইরানের সাংস্কৃতিক নিদর্শনসহ ৫২টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বাগদাদ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ইরানের শীর্ষ জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করে মার্কিন সেনারা। ইরান ওই হত্যার চরম প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্প শনিবার রাতে এক টুইট বার্তায় হুমকি দিয়েছেন, তেহরান প্রতিশোধ নিলে ইরানের ৫২টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে। এসব লক্ষ্যবস্তু ইরান ও ইরানি সংস্কৃতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জেনেভা ও হেগে স্বাক্ষরিত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী সাংস্কৃতিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো নিষিদ্ধ। ২০১৭ সালে ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংসের নিন্দা জানিয়ে সর্বসম্মত এক প্রস্তাব পাস করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই হুমকির নিন্দা জানিয়েছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। রবিবার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টকে হুমকি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ‘প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই ট্রাম্পের স্পষ্ট করা উচিত যে তিনি কোনও যুদ্ধাপরাধের আদেশ দেবেন না এমনকি অনুমোদনও করবেন না’।
তবে নিজের হুমকির পক্ষে সাফাই গেয়ে রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা (ইরান) আমাদের মানুষ হত্যা করতে চায়। তারা আমাদের নাগরিকদের নির্যাতন ও অঙ্গহানি করতে চায়। তারা রাস্তার পাশে বোমা পুতে আমাদের নাগরিকদের উড়িয়ে দিতে চাইবে আর আমরা তাদের সাংস্কৃতিক স্থাপনায় হাত দিতে পারবো না? আমার কাজের ধরন সে রকম নয়’।








