দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সদ্য প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত, প্রয়াত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীকে ব্যতিক্রমী ও বিরল শ্রদ্ধার্পণ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। তাদের দুজনের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল অনবদ্য।
একটি শোক বার্তায় এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আজ ঐতিহাসিক শিখরে পৌঁছেছে। দুদেশের সম্পর্ককে এই অবস্থানে আনার পেছনে হাই-কমিশনার আলি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।’ শোকবার্তাটি মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকায় তার কাউন্টারপার্ট, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে পাঠিয়েছেন তিনি।
ওই বার্তায় জয়শঙ্কর আরও বলেছেন, ‘হাই কমিশনার আলী শুধু একজন পরিণত ও সুভদ্র কূটনীতিকই ছিলেন না, ভারত-বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন প্রধান কাণ্ডারি!’
প্রসঙ্গত, পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাফল্যের সঙ্গে দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করার পর গত ১৯ ডিসেম্বর সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী ঢাকায় ফিরে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশে ফেরার পরই তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন এবং গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার কম্বাইন্ড মিলিটারি হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
দিল্লিতে সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর পাঁচ বছরের কার্যকালের মধ্যে প্রায় তিন বছর এস জয়শঙ্কর ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। আর শেষ সাত মাস তিনি ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে। এই সময়ের মধ্যে দুজনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের বাইরেও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ঠিক চার সপ্তাহ আগে দিল্লির ‘বাংলাদেশ হাউসে’ বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সংবর্ধনা সভাতেও ছুটে এসেছিলেন এস জয়শঙ্কর—পার্লামেন্ট অধিবেশনের হাজার ব্যস্ততা ফেলেও।
এই জন্যই শোকবার্তায় ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখতে দ্বিধা করেননি, ‘তাঁর প্রয়াণ আমার জন্য ব্যক্তিগতভাবেও এক অপূরণীয় ক্ষতি।কারণ পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকেই তার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।’
সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীকে তিনি বর্ণনা করেছেন ‘বাংলাদেশের একজন সত্যিকারের ও খাঁটি দেশপ্রেমী’ হিসেবে। যিনি একই সঙ্গে ‘ভারতেরও অকৃত্রিম বন্ধু’ ছিলেন।
অবসরে যাওয়া একজন পেশাদার কূটনীতিবিদের প্রয়াণে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মন্ত্রীদের এইভাবে শোক ব্যক্ত করার ঘটনা যে বিরল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। দিল্লিতে সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর কার্যকাল যে অনন্য ও ব্যতিক্রমী ছিল,এই ঘটনায় তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।
আরও পড়ুন...
যে বাংলাদেশি কূটনীতিককে ‘মিস’ করবে দিল্লি








