কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, তেহরানের কাছে বিধ্বস্ত হওয়া ইউক্রেনগামী যাত্রীবাহী বিমানটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সম্ভবত ভুল করে একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিমানটিতে আঘাত করে থাকতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই ধরনের মত প্রকাশ করে এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের কথা উড়িয়ে দিয়েছে ইরান।
গত ৮ জানুয়ারি (বুধবার) সকালে তেহরানের ইমাম খোমেনি বিমানবন্দর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উদ্দেশে উড্ডয়নের পরপরই একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমান বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটিতে আরোহী ছিলেন ৮২ জন ইরানি, ৬৩ জন কানাডীয় এবং নয় কর্মীসহ ১১ জন ইউক্রেনের নাগরিক। এছাড়া সুইডেনের ১০, আফগানিস্তানের সাত এবং জার্মানির তিন নাগরিকও বিমানের আরোহী ছিলেন। তাদের সবাই নিহত হয়।
একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বিমানটিতে আঘাত করেছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে বিমানটিতে আঘাত করতে পারে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘এসব ধারণা একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনীয়তাকে জোরালো করছে। কানাডীয়দের প্রশ্ন আছে আর তারা উত্তর পাওয়ার যোগ্য’। নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাউকে দোষারোপ করা বা কোনও সিদ্ধান্তে পৌছানোর জন্য এটা খুব তাড়াহুড়া হয়ে যায়’।
জাস্টিন ট্রুডোর বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, বিমান বিধ্বস্তে আক্রান্ত কানাডা এবং অন্য আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে নিবিড় ভাবে কাজ করছে যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এখন একটি পূর্ণাঙ্গ এবং স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন’।
এদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমান ভূপাতিত হওয়ার খবরকে মার্কিন প্রচারণা বলে আখ্যা দিয়েছেন এক ইরানি মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়া তাদের দাবি মূল্যহীন। তাদের কাছে যদি কোনও প্রমাণ থাকে তাহলে এই ধরনের শোরগোল তোলার আগে এবং ইরানবিরোধী ব্যবস্থা নিতে জনমত প্রভাবিত করার আগে তারা সেগুলো সহজেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থাপন করতে পারে’।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির ব্লাক বক্স যুক্তরাষ্ট্র বা নির্মাণকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। তবে আনুষ্ঠানিক তদন্তে অংশ নিতে বোয়িংকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার ইরানের বেসামরিক বিমান সংস্থার প্রধান আলী আবেদ জাভেহ জানিয়েছেন, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা অনুসন্ধানে সহায়তার জন্য কানাডা এবং সুইডেনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী এই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অধিকার ইরানের রয়েছে। তবে এই ধরনের তদন্তে সাধারণত নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট থাকে।
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) বিদেশি শাখা কুদস বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়। এই হামলার ‘মারাত্মক প্রতিশোধ’ হিসেবে বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে ইরাকের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। আর ওইদিনই তেহরানের কাছে বিধ্বস্ত হয় ইউক্রেন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী ৭৫২ নম্বর ফ্লাইট।








